সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: গ্রীষ্মের মরশুম পড়তেই পুরুলিয়া জেলায় জল সংকট দেখা দেয়। এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি পানীয় জলের কষ্টে ভোগে। পুকুর, কূপ, নলকূপগুলি প্রায় শুকিয়ে যায়। তাই পানীয় জলের অসুবিধার কথা চিন্তা করে বাঁকুড়া লোকসভার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকে চারটি সোলার সাবমার্সিবল করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন। ব্লকের তিনটি পঞ্চায়েতে মোট চারটি সোলার সাবমার্সিবল (ডিপ টিউবওয়েলের) কাজ করা হবে। যার জন্য সংসদ তহবিল থেকে মোট ৩৪ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তার কাজ শুরু হবে। যার ফলে এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মিটবে। তাতেই খুশি এলাকার মানুষ।
অরূপবাবু বলেন, রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকা জুড়ে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। তাই বিধানসভার সাঁতুড়ি, নিতুড়িয়া ও রঘুনাথপুর শহরের জন্য আগেই জল প্রকল্পের (সোলার সাবমার্সিবল) জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকার কাজ হয়ে গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকের জন্য মোট ৩৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। তার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরে সাংসদ তহবিলে কাজ করার জন্য ৫ কোটি টাকা পাওয়া যায়। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি বাবদ ৯৬ লক্ষ টাকা কেটে নেয়। সাধারণ মানুষের কাজ করার টাকাতেও কেন্দ্র জিএসটি বসিয়ে টাকা কেটে নিচ্ছে। তা না হলে সেই টাকায় আরও অনেক কাজ করা সম্ভব হত।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি সংস্থা কাজের বরাত পেয়েছে। তাদের তরফ থেকে ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত এলাকার কাজের জায়গাগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে। বাবুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপুর ফুটবল ময়দান এবং ডুমরাকুড়ি গ্রামের কাছে দুটি সোলার ডিপ টিউবওয়েল তৈরি হবে। এছাড়া নতুনডি গ্রাম পঞ্চায়েতে কেলাহী মাঝিপাড়া এবং শাঁকা গ্রাম পঞ্চায়েতের শাঁকা রেলগেটের কাছে সোলার ডিপ টিউবওয়েলগুলি তৈরি হবে। তাতে গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে পথ চলতি মানুষেরা সহজে জল পাবেন।
বাবুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোমনাথ নন্দী বলেন, সংসদ তহবিল থেকে পঞ্চায়েত এলাকায় দুটি সোলার সাবমার্সিবল তৈরি হবে বলে জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন দপ্তর থেকে কয়েকজন আধিকারিক এসে জায়গাগুলি দেখে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এবার সেই সমস্যা দূর হবে।