Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্পত্তি বিবাদে খুনে চারজনের যাবজ্জীবন

সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে তিন বছর আগে ধূপগুড়িতে একটি খুনের ঘটনায় শুক্রবার পাঁচজনের সাজার নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ি জেলা আদালত।

সম্পত্তি বিবাদে খুনে চারজনের যাবজ্জীবন
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে তিন বছর আগে ধূপগুড়িতে একটি খুনের ঘটনায় শুক্রবার পাঁচজনের সাজার নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। এর মধ্যে চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক (থার্ড কোর্ট) বিপ্লব রায়।

Advertisement

মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী প্রসেনজিৎ দেব বলেন, সাজাপ্রাপ্তদের নাম বাসন্তী সরকার, নিখিল সরকার, বুদ্ধেশ্বর মণ্ডল, বিশ্বনাথ সরকার ও শম্ভু মণ্ডল। এর মধ্যে প্রথম চারজনের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। শম্ভুর দশ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অভিযুক্তরা এতদিন জামিনে মুক্ত ছিল।  
আদালত সূত্রে খবর, ২০২২ সালের ১৪ মে ঘটনাটি ঘটে। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে ধূপগুড়ির ঝাড় শালবাড়ি এলাকায় গোবিন্দ মণ্ডল (৫২) নামে এক প্রৌঢ়ের বাড়িতে সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালায় তাঁরই আত্মীয়দের একাংশ। গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যারানি মণ্ডল সহ পরিবারের অন্যদেরও মারধর করা হয়। গুরুতর জখম হন গোবিন্দ। তাঁকে প্রথমে ধূপগুড়ি হাসপাতালে, সেখান থেকে জলপাইগুড়িতে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক গোবিন্দকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। পরবর্তীতে চার্জশিটে যুক্ত হয় আরও তিনজনের নাম। ঘটনায় মোট ১২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। আদালতে জমা পড়া সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এদিন বিচারক ঘটনায় দোষী এক মহিলা সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী।
ঠিক কী কারণে ওই খুনের ঘটনা ঘটে? মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সন্ধ্যারানি মণ্ডলের বাবা মেয়েকে কিছুটা সম্পত্তি দিয়েছিলেন। সেখানে বাড়ি বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যারানি তাঁর পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু পরিবারের একাংশ অনেক দিন ধরে ওই সম্পত্তি হাতানোর ছক করছিল। ঘটনার সময় নতুন ঘর তৈরি করছিলেন সন্ধ্যারানিরা। ঘটনার দিন দুপুরে তাঁরা যখন ঘর তৈরির কাজ দেখাশোনা করছিলেন, তখনই অভিযুক্তরা হামলা চালায়। সন্ধ্যারানি ও তাঁর স্বামী গোবিন্দ মণ্ডল সহ তাঁদের ছেলেদের মারধর করা হয়। বাঁশ, লাঠি এমনকী কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয় গোবিন্দকে। যাঁরা সন্ধ্যারানির বাড়ি তৈরির কাজ করছিলেন, সেই মিস্ত্রিরাও মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ