Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘর চারটে, পড়ুয়া চারশো, দরবার করা সত্ত্বেও মেলেনি নয়া ক্লাসরুম, সমস্যা রায়গঞ্জের বীরনগর জিএসএফপি স্কুলে

সর্বসাকুল্যে ক্লাসরুম মাত্র চারটে। কিন্তু পড়ুয়ার সংখ্যা চারশো। কয়েকবছর তাই গাদাগাদি করেই পড়ুয়াদের ক্লাস করাতে হয় শহরের বীরনগর জিএসএফপি স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

ঘর চারটে, পড়ুয়া চারশো, দরবার করা সত্ত্বেও মেলেনি নয়া ক্লাসরুম, সমস্যা রায়গঞ্জের বীরনগর জিএসএফপি স্কুলে
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: সর্বসাকুল্যে ক্লাসরুম মাত্র চারটে। কিন্তু পড়ুয়ার সংখ্যা চারশো। কয়েকবছর তাই গাদাগাদি করেই পড়ুয়াদের ক্লাস করাতে হয় শহরের বীরনগর জিএসএফপি স্কুল কর্তৃপক্ষকে। আবার শুধু ক্লাস রুম নয়, শিক্ষকদের বসার পর্যাপ্ত ঘরও অপ্রতুল। তারপরও পড়াশোনার মান নিয়ে যাতে প্রশ্ন না ওঠে, তার জন্য সচেষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্লাসরুমের সমস্যা মেটাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দরবার করছে স্কুলটি। কিন্তু সেই আবেদনে পদক্ষেপ নেই।

Advertisement

কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সমস্যার সমাধান হয়নি। তবে পড়াশোনার মান ভালো বলেই, শহরের এই স্কুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই ফি বছর বাড়ছে পড়ুয়া সংখ্যা।
১৯৫০ সালে রায়গঞ্জ শহরের বীরনগরে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাইমারি স্কুলটি। তারপর থেকে সাফল্যের সঙ্গে পঠনপাঠন চলছে। শহরের অন্দরে স্কুলটির পড়াশোনার গুণমান ভালো বলে আশপাশের এলাকা সহ শহরের ২৭টি ওয়ার্ড থেকে স্কুলে ভর্তি হতে আসে পড়ুয়ারা। চলতি শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া সংখ্যা ৪০০। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন, প্রি প্রাইমারি, প্রথমশ্রেণির ক্লাস করিয়ে, মিডডে মিল শেষে, ছুটি হওয়ার পর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ারা ভালোভাবে ক্লাস রুমে বসতে পারে।
বীরনগর জিএসএফপি স্কুলের টিআইসি দুলাল সাহা চৌধুরী বলেন, অপ্রতুল শ্রেণিকক্ষের জন্য সমস্যা হচ্ছে। নির্দিষ্ট শ্রেণিকক্ষ ছাড়াও স্কুলে যেখানে বসে বাচ্চারা মিড ডে মিল খায়, সেখানে বসিয়েও ক্লাস করানো হয়। আবার পড়ুয়া বেশি বলে একবারে সকলকে বসিয়ে মিড ডে মিল খাওয়ানো যায় না। এক একটি ক্লাসকে পৃথকভাবে বসিয়ে খাওয়ানো হয়। আবার বর্ষার সময় মিড ডে মিল খাওয়ানোর জায়গায় জল জমে গিয়ে অবস্থা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর এই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকার সমস্যা ব্যাপকভাবে মাথাচারা দিয়েছে পাঁচবছর ধরে। সে কারণে স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে ক্লাস করানো হয় পড়ুয়াদের। কিন্তু গরমে সেটা করা যায় না। সমস্যা মেটাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সবদপ্তরের কাছেই আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা সমাধানে এখনও পর্যন্ত পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। 
স্কুলের আরএক শিক্ষক নিমাই সিংহ রায় বলেন, শুধু  ক্লাস রুম নয়। আমাদের স্কুলে ১১ জন শিক্ষক শিক্ষিকার পর্যাপ্ত বসার ঘর পর্যন্ত নেই। ছোট্ট একটি ঘরে কোনওরকমে শিক্ষক শিক্ষিকারা বসেন। আমরা চাই, স্কুলে ক্লাসরুম ও শিক্ষকদের অফিস রুম বানানোর পর্যাপ্ত জায়গা হোক। সেখানে প্রয়োজনীয় নির্মাণ হোক। এ ব্যাপারে ডিএপিএসসির চেয়ারম্যান মহম্মদ নাজিমউদ্দিন আলি বলেন, আগামীদিনে প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি যুক্ত হবে বলে একটি ক্লাসরুম বানানোর ব্যাপারে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্কুলে আরও কয়েকটি ঘর বানানোর বিষয়টিও বিবেচনা করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ