নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নানুরে তৃণমূলের বুথ সভাপতি রাজবিহারী সর্দারকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন নানুর পঞ্চায়েত সমিতির মত্স্য কর্মাধ্যক্ষের ছেলে মেঘনাদ মেটে। যা ঘিরে এলাকায় শোরগোল শুরু হয়েছে। রবিবার ধৃতদের চারজনকেই বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে চারদিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
গত শুক্রবার রাতে নানুরের থুপসারা অঞ্চলের পাতিসারা গ্রামের বাসিন্দা রাজবিহারীকে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, গ্রামে নবান্ন উপলক্ষে প্রতি বছরই অন্নপূর্ণা পুজো হয়। মৃতের ছেলে মানব সর্দার বলেন, চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যায় তুমুল গণ্ডগোল হয়। গ্রামের নাটমন্দিরের কাছে অতর্কিতে পিছন দিক থেকে বাবাকে শাবল, রামদা দিয়ে আক্রমণ করা হয়। ছাড়াতে গেলে আমাদেরও কয়েকজনের উপরেও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নানুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। রাজবিহারী সহ বাকিদের উদ্ধার করে বর্ধমানের মঙ্গলকোট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজবিহারীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্সক। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হলেও সেখানে দেহের ময়নাতদন্ত হয়নি। শেষে রবিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে দেহের ময়নাতদন্ত হয়। শাসকদলের কোন্দলের কারণেই এই খুন বলে দাবি মৃতের পরিবারের। এই ঘটনা পিছনে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা তথা নানুর পঞ্চায়েত সমিতির মত্স্য কর্মাধ্যক্ষ বুদ্ধদেব মেটের দিকে আঙুল তোলে মৃতের পরিবার। এনিয়ে অভিযোগও দায়ের করা হয় থানায়। তবে এফআইআরে যে ন’জনের নাম ছিল সেই তালিকায় বুদ্ধদেবের নাম নেই। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর ছেলে বছর ২০-র মেঘনাদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও একই গ্রামের বাসিন্দা সূর্য মেটে, ক্ষীরোদ মেটে ও অরুণ মেটেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এদিন ধৃতদের আদালতে তোলার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে প্রত্যেকেই চিত্কার করে বলে, খুনের ব্যাপরে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের এমনিই তোলা হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত বাকিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৃতের পরিজনরা। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সঙ্গে জড়িত বাকিরা পলাতক। পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। নানুরের থুপসারা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ মহিমউদ্দিন বলেন, মৃতের ছেলে অন্ধকারে সবাইকে দেখতে পায়নি। যাঁদের দেখতে পেয়েছে তাদেরই নাম পুলিশকে বলেছে। রবিবার বিকেলে রাজবিহারীর মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছয়। কান্নার রোল ওঠে গ্রামজুড়ে। তবে ক্ষোভের আঁচ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেকারণে কড়া পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।