Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

এবার ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ রুখতে তৎপর উপসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশ

ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধে জড়ালে ফল হবে মারাত্মক। বড়োসড়ো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে উপসাগরীয় দেশগুলিকে।

এবার ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ রুখতে তৎপর উপসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশ
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তেহরান: ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধে জড়ালে ফল হবে মারাত্মক। বড়োসড়ো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে উপসাগরীয় দেশগুলিকে। তাই দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিশর। চার উপসাগরীয় দেশেরই দাবি, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির উপরে।

Advertisement

একদিকে অভ্যন্তরীণ গণআন্দোলন, অন্যদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধ-হুমকি। দুইয়ের মাঝে জেরবার ইরানের খামেনেই প্রশাসন। বিদেশমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। স্বয়ং ট্রাম্পও ইরান ইস্যুতে কিছুটা হলেও সুর নরম করেছেন। শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি  নিজেই জানিয়েছেন, ‘ইরানের নেতারা ৮০০ আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। ধন্যবাদ।’

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার অনেক আগেই নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তৎপর হয় সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিশর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চারটি দেশ টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। উভয় পক্ষকেই সংঘাতের সিদ্ধান্তে সংযম দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলির আশঙ্কা, ইরানের উপর মার্কিন হামলা হলে ইরানও চুপ থাকবে না। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্টেশনে পালটা হামলা চালাতে পারে। যা গোটা অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে।

আমেরিকাকে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হলে শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিই খারাপ হবে না। জ্বালানির দামও বাড়বে। বাণিজ্য ব্যাহত হবে। একইসঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে তাদের দাবি, কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিলে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। কূটনৈতিকভাবে ইরানকে আরও একঘরে হয়ে যেতে হবে। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জেরে আমেরিকা আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এখনই কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মুখোমুখি হয় আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, ইরানের অশান্তিতে অন্তত ২,৬৩৭ জন আন্দোলনকারীর প্রাণ গিয়েছে।

বিষয়টা উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুখের কথায় বিশ্বাসী নন, তিনি কাজের মানুষ। রাষ্ট্রসংঘে যেমন অন্তহীন আলোচনা হয়, তেমনটি তিনি করেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে সব ধরনের বিকল্পই খোলা আছে।’ যদিও ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত। তবে সরকারের নির্দেশে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধই রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ