সংবাদদাতা, কান্দি: প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম নেই। শুধু চারটি দাগ টানা। কান্দি মহকুমা হাসপাতালের এক চিকিৎসকের লেখা এই প্রেসক্রিপশন সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সংবাদদাতা, কান্দি: প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম নেই। শুধু চারটি দাগ টানা। কান্দি মহকুমা হাসপাতালের এক চিকিৎসকের লেখা এই প্রেসক্রিপশন সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর হাসপাতালের ওপিডির বিভাগের ১৮ নম্বর ঘরে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাজির ছিলেন ডাক্তার সুমিত মণ্ডল ও অভীক দাস। বেলা ১২টা পর্যন্ত সুমিতবাবু ছিলেন। তারপর ছিলেন অভীক দাস। রোগীর ভিড়ও ভালোই ছিল। অভীকবাবু দ্রুততার সঙ্গে রোগী দেখে গিয়েছেন। তাই কার্যত প্রতিটি প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম ঠিকমতো লেখা নেই। সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায় যে প্রেসক্রিপশনের ছবি ভাইরাল হয়েছে তাতে কোনও ওষুধের নামই স্পষ্ট করে লেখা নেই। ওষুধের নামের জায়গায় চারটি ছোটবড় লম্বা দাগ। প্রথম দাগটি একটি ছোট সাইজের সোজা পেনের দাগ। দাগের আগে ও পিছনে দুটি অস্পষ্ট ইংরেজি অক্ষর লেখা রয়েছে। দ্বিতীয় দাগটিও প্রায় একই ধরনের। তবে দাগটি প্রথমটির থেকে একটু বেশি লম্বা। তৃতীয় দাগটির প্রথমে ও শেষে কিছুই লেখা নেই। শুধু দাগের সামনের অংশ ও পিছনের অংশ একটু বাঁকানো হয়েছে। শেষে আরও একটি লম্বা দাগ দেওয়া হয়েছে। স্যোশাল মিডিয়ায় এই প্রেসক্রিপশন পোস্ট হতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বক্রোক্তি করা হচ্ছে।
রোগীর পরিবারও ক্ষুব্ধ। সোমবার হাসপাতালের ওপিডিতে চিকিৎসা করতে আসা এক রোগী বললেন, এসব চিকিৎসকদের কারসাজি। প্রেসক্রিপশন এমনভাবে লেখার অর্থ, ওই নাম নির্দিষ্ট ওষুধের দোকানদারই বুঝতে পারবেন। কারণ প্রেসক্রিপশন নিয়ে পাশের দোকানে গেলেও আমাদের বলে দেওয়া হচ্ছে কোন দোকানে যেতে হবে। অপর এক রোগীর পরিজন বলেন, ওপিডি সেকশনে বেশিরভাগ ওষুধের নাম সেই সমস্ত কোম্পানির লেখা হয়, যাদের ওষুধগুলির কোনও ল্যাব টেস্ট হয় না। ওই হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, এখানে একজন চিকিৎসক আছেন যিনি ছাতিনাকান্দি এলাকার এক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের অনামী কোম্পানির ওষুধের বাইরে কোনও ওষুধ লেখেন না। সব কমিশন বুঝলেন তো।
চিকিৎসক অভীকবাবু বলেন, ওইদিন রোগীকে বাইরে থেকে স্পেসিফিক কোনও ওষুধ কিনতে হয়নি। হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হয়েছে। আমার পাশেই ফার্মাসিস্ট ছিলেন। তাই কোনও পরিষেবা ব্যাহত হয়নি। আসলে রোগীর একটি চাপ থাকে তো। তাই সবসময় হ্যান্ড রাইটিং ভালো হয় না। তবে যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁরা ডিজিট্যাল ক্রিয়েটার্স। হাসপাতাল সুপার রাজেশনাথ সাহা বলেন, ওই চিকিৎসককে বিষয়টি নিয়ে আগে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকী লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তবে এদিন তিনি ভূল স্বীকার করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন আর হবে না। এবার থেকে ক্যাপিট্যাল লেটারে ওষুধের নাম লিখবেন। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, চিকিৎসকদের বলব, আপনারা প্রেসক্রিপশন লেখার সময় আরও সতর্ক ও আন্তরিক হন।