নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক দেবদুলাল দাস গ্রেপ্তার হতেই মুখ খুলছেন তমলুক শহরের ডহরপুর তফসিলি হাইস্কুলের প্রাক্তনীরাও। স্কুলের হেড স্যার দীর্ঘদিন ধরে নানা ছুতোয় ছাত্রীদের গায়ে হাত দিতেন বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ওই স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রী ও প্রাক্তন ছাত্রী তমলুক থানায় যান। তাঁরা ধৃত প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা শুরু হয়েছে। এদিন অভিযুক্তকে পূর্ব মেদিনীপুরের স্পেশাল কোর্টে তোলা হয়। পুলিস পাঁচদিন হেফাজত চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল। বিচারক দু’দিন পুলিসি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। ধৃতকে জেরা করে স্কুলে তাঁর কুর্কীতির আরও তথ্য জোগাড় করতে চাইছে পুলিস।
সোমবার ওই প্রধান শিক্ষকের কুকীর্তির বিরুদ্ধে স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা একযোগে বিক্ষোভে শামিল হন। ধৃত প্রধান শিক্ষককে তাঁর অফিস থেকে টেনে স্কুলের মাঠে বসিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। তাঁর ছেলে এসে বিক্ষোভকারীদের হুমকি দেয়। তাতে বিক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে। পুলিস ওই যুবককে উদ্ধার করে ভ্যানে তুলে নিলে পুলিসের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ চলে। অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ এবং লিখিত অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিভাবকরা বলছেন, এই প্রতিবাদ আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। অভিভাবকরা লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন প্রতিবাদের রাস্তায় হাঁটেননি। কিন্তু, দিন দিন প্রধান শিক্ষকের বিকৃত রুচি আর নেওয়া যাচ্ছিল না। বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে ছাত্রীরা ধারাবাহিক অভিযোগ করার পরই তাঁরা সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ওই স্কুলে যায়। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায়ের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মুকুল গাইনের নেতৃত্বে একটি টিম স্কুলে যায়। তাতে মহিলা অফিসাররাও ছিলেন। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের থেকে তাঁরা বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পর এদিনই বিকাশ ভবনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে রাজ্য শিক্ষাদপ্তর। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) বলেন, আমাদের মহিলা অফিসার সহ একটি টিম ওই স্কুলে পৌঁছেছিল। তাঁরা বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করার পর বিকাশ ভবনে পাঠানো হয়েছে।
ওই স্কুলের তিন প্রাক্তন ছাত্র এদিন তমলুক থানায় যান। তাঁরা বলেন, এর আগেও ওই শিক্ষক এরকম আচরণ করেছেন। ছাত্রীদের বাথরুমে ঢুকে পড়তেন। বিষয়টি নিয়ে বছর দুয়েক আগে একবার ঝামেলা হয়েছিল। তখনও স্কুলে সংবাদমাধ্যম পৌঁছে গিয়েছিল। প্রধান শিক্ষককে এনিয়ে সতর্ক করার পরও তিনি নিজেকে শোধরাননি। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের টার্গেট করা হতো। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেন। একজন প্রধান শিক্ষকের কাছে এরকম আচরণ খুবই লজ্জার ঘটনা। ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের এহেন আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। প্রাক্তন ছাত্রীরাও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কঠোর শাস্তি চাইছেন।