Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্মল ঘোষকে তৃণমূলে নেওয়ায় মনক্ষুণ্ণ প্রাক্তন বিধায়কের ভাই

বেকসুর খালাস পেলেও দাদার খুনে অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। সেই নির্মল ঘোষের তৃণমূলে যোগদান কোনওভাবেই মানতে পারছেন না কৃষ্ণগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের ভাই সুমিত বিশ্বাস।

নির্মল ঘোষকে তৃণমূলে নেওয়ায় মনক্ষুণ্ণ প্রাক্তন বিধায়কের ভাই
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বেকসুর খালাস পেলেও দাদার খুনে অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। সেই নির্মল ঘোষের তৃণমূলে যোগদান কোনওভাবেই মানতে পারছেন না কৃষ্ণগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের ভাই সুমিত বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার হাঁসখালির বাড়িতে বসে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দলের সিদ্ধান্ত মানলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি নির্মল ঘোষকে দলে নেওয়া সমর্থন করতে পারছেন না। 

Advertisement

২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার, সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনের রাতে নদীয়ার হাঁসখালিতে নিজের বাড়ির কাছে একটি স্কুলের মাঠে খুন হন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ। প্রথমে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। ধৃত সুজিত মণ্ডল, অভিজিৎ পুণ্ডরি এবং নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়। খুনের ঘটনায় তৎকালীন বিজেপি নেতা মুকুল রায়, রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের নামও উঠে আসে। প্রথমে রানাঘাটে এডিজি আদালতে শুনানি শুরু হলেও ২০২১ সালে মামলা স্থানান্তরিত হয়ে বিধাননগর এমপি-এমএলএ আদালতে যায়। সম্প্রতি জগন্নাথ সরকার, মুকুল রায়ের পাশপাশি নির্মল ঘোষকেও বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেয় আদালত। বাকি দু’জন সুজিত মণ্ডল এবং অভিজিৎ পুণ্ডরিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরপর সম্প্রতি রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীর হাত থেকে পতাকা নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন নির্মল ঘোষ। এক সময় তিনি ছিলেন হাসখালি ব্লক বিজেপির সভাপতি। শুধু তাই নয়, ওই ব্লকে বিজেপির পথপ্রদর্শকও বটে তিনি। এবার ব্লক রাজনীতির খেলা ঘোরাতে তাকেই দলে নেয় তৃণমূল। এরপরেই তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, নির্মল ঘোষ তৃণমূলে আশায় ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে খুন হওয়া বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের নাম। তাঁর পরিবার কি মেনে নিতে পারবে নির্মলকে? বেকসুর খালাস হলেও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে মেনে নেওয়া অসম্ভব বলে জানান সত্যজিতের ভাই সুমিত। 
তিনি বলেন, হতে পারে উনি বেকসুর খালাস হয়েছিলেন। কিন্তু দাদার খুনে নামটা জড়িয়েছিল। তাই নির্মলকে মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা তো জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলটা করি। দলের প্রতি আনুগত্য রয়েছে। তাই দল যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখন মেনে নিতে হবে হয়তো। 
এদিকে, নির্মল ঘোষের দলত্যাগ কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিজেপি বিধায়ক অসীম বিশ্বাস। তিনি বলেন, নির্মল ঘোষকে ছাড়া আমরা একাধিক নির্বাচনে ভালো ফল করেছি। তাই ওঁর দল ছেড়ে যাওয়া নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। একটা জিহাদি, মস্তান, ধর্ষকদের দলে গিয়ে উনি থাকুন। 
পাল্টা রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, দল সব দিক বিবেচনা করেই নির্মলবাবুকে নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে দলের স্বার্থ দেখতে হবে। তাছাড়া নির্মলবাবুর বিরুদ্ধে তো অপরাধ প্রমাণ হয়নি। তাঁকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে। যদি উনি অপরাধী হতেন তাহলে নিশ্চয়ই ওঁকে দলের নেওয়া হতো না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ