Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শতবর্ষ প্রাচীন ডাকঘর নিয়ে উদাসীন কেন্দ্র অগ্নিদগ্ধের পর সংস্কারে উদ্যোগ প্রাক্তন পুরকর্তার

একবছর আগে আগস্টের এই দিন পুড়ে গিয়েছিল হাওড়ার দাসনগরের পোস্টাল অ্যান্ড টেলিগ্রাফ অফিস।

শতবর্ষ প্রাচীন ডাকঘর নিয়ে উদাসীন কেন্দ্র অগ্নিদগ্ধের পর সংস্কারে উদ্যোগ প্রাক্তন পুরকর্তার
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একবছর আগে আগস্টের এই দিন পুড়ে গিয়েছিল হাওড়ার দাসনগরের পোস্টাল অ্যান্ড টেলিগ্রাফ অফিস। নিজস্ব ভবন না হওয়ায় শতবর্ষ পুরনো এই ডাকঘর সংস্কারে ডাকবিভাগ কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে তারপর অভিযোগ ওঠে। ফলে অন্যত্র সরে যাওয়ার উপক্রম হয় ডাকঘরটির। কিন্তু বাধা দেন এলাকার প্রবীণ নাগরিকরা। অবশেষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পেল দাসনগর ডাকঘর।

Advertisement

বাঙালি শিল্পপতিদের মধ্যে অন্যতম আলামোহন দাস। তাঁর নামেই নামকরণ হাওড়ার দাসনগরের। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, কটন মিলের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল দাসনগর ডাকঘর। একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ডাকঘর বহু গ্রাহককে পরিষেবা দিয়েছে। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা কম নয়। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ৩ হাজার ৩০০ মানুষ নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক স্পিড পোস্ট, পার্সেল বুক হয় এখান থেকে। এছাড়াও সংলগ্ন এলাকার কয়েকশো প্রবীণ এই ডাকঘরের উপর নির্ভরশীল। ঐতিহ্যবাহী এই স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে স্থানীয়দের বহু স্মৃতি।
গতবছর ২৯ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডে ডাকঘরের একাংশ পুড়ে যায়। জীর্ণ ভবনে কোনওমতে চলছিল কাজ। এরপর ডাকবিভাগ এই অফিসকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নোটিশ দেয়। এই কাজের প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ডাকঘর অন্যত্র চলে গেলে এই জায়গায় প্রোমোটিং চক্র সক্রিয় হবে। ইতিহাস বিজরিত স্থানে সেরকম কিছু হতে দিতে চান না তাঁরা। বাসিন্দাদের পাশে এসে দাঁড়ান হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পরিষদ সদস্য বিভাস হাজরা। শেষপর্যন্ত তাঁর সহায়তায় ডাকঘর সংস্কার হয়। সম্প্রতি নতুনভাবে মেরামত হয়েছে দেওয়াল ও পুরনো আমলের ছাদ। সংস্কারের কাজে ছাড়পত্র দিয়েছে ডাকবিভাগ।
সম্প্রতি এই উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল দাসনগর ডাকঘরে। উপস্থিত ছিলেন হাওড়া পোস্টাল ডিভিশনের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট মহাদেব মণ্ডল, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট সৌমেন কিস্কু, চপলাদেবী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিমি দাস আদিত্য, প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্য বিভাস হাজরা। ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। মহাদেববাবু বলেন, ‘ডাকঘর অন্যত্র চলে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়তেন তা ঠিক। এদিকে নিজস্ব ভবন না হওয়ায় ডাক বিভাগের পক্ষেও সংস্কারের খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবীণ বাসিন্দা কৃষ্ণপদ গুঁইন, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই ডাকঘর দাসনগরের ঐতিহ্য। প্রতিদিন প্রচুর গ্রাহক এখানে আসেন। কেন্দ্রীয় সরকার সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি। এই কাজের জন্য বিভাসবাবুকে ধন্যবাদ।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ