Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এপিকে ফাইল ডাউনলোড করে ৮ লক্ষ টাকা খোয়ালেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন বিএসএনএল কর্তা

ওই প্রাক্তন আধিকারিকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে সাইবার প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

এপিকে ফাইল ডাউনলোড করে ৮ লক্ষ টাকা খোয়ালেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন বিএসএনএল কর্তা
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রতারকদের কথামতো মোবাইল ফোনে ‘এপিকে’ ফাইল ডাউনলোড করে ৭ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা খোয়ালেন বাঁকুড়ার এক অবসরপ্রাপ্ত বিএসএনএল কর্তা। ওই প্রাক্তন আধিকারিকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে সাইবার প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি এব্যাপারে বাঁকুড়া সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিস জানিয়েছে। 

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনও ফাইল বা লিঙ্ক মোবাইলে ডাউনলোড না করার ব্যাপারে আমরা বারবার জেলাবাসীকে সচেতন করছি। তা করলে টাকা খোয়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়। বিষয়টি সকলকে মাথায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানার এক আধিকারিক বলেন, অবসর নেওয়ার পর ওই বিএসএনএল কর্তা মোটা টাকা পেয়েছিলেন। তার মধ্যে বেশ কিছু টাকা তাঁর দু’টি সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা ছিল। সম্প্রতি তিনি কোনও কাজ করার জন্য টাকা অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রাখেন। ব্যাঙ্কের নাম করে সাইবার প্রতারকরা তাঁকে একটি এপিকে ফাইলের লিঙ্ক পাঠিয়েছিল। তা ডাউনলোড করা মাত্র সব টাকা গায়েব হয়ে যায়।
কীভাবে প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নেয়? উত্তরে ওই তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, অনলাইন লেনদেনের জন্য বর্তমানে প্রায় সব ব্যাঙ্কেরই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ রয়েছে। ব্যাঙ্কে যাওয়ার ঝক্কি এড়াতে তা গ্রাহকরা নিজ নিজ মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখেন। এপিকে ফাইল ডাউনলোড করা মাত্র গ্রাহকের মোবাইল সেটের নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে যায়। ফলে একবার তাদের কথামতো ওইসব অ্যাপের পিন নম্বর বা কোড টাইপ করামাত্র তারা দ্রুত অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নিতে সক্ষম হয়। এভাবেই ফাইল অথবা লিঙ্ক পাঠিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। 
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকরা সচেতন হওয়ার ফলে এখন আর প্রতারকরা ব্যাঙ্কের নাম করে ফোনে এটিএমের পিন নম্বর বা অন্যান্য তথ্য জানতে চায় না। পরিবর্তে সরাসরি মোবাইল ফোনের কন্ট্রোল নিয়ে প্রতারণা করে। ফলে ব্যাঙ্কের নাম করে কেউ কিছু পাঠালেও সরল বিশ্বাসে তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের শাখা বা সাইবার ক্রাইম থানায় যোগাযোগ করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি বহুজাতিক ফ্রায়েড চিকেন সংস্থার ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নাম করে বাঁকুড়া শহরের একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারকরা প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তার আগে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের নামে জেলার দুই ব্যবসায়ীর প্রায় এক কোটি টাকা খোয়া যায়। ব্যবসায়ীদের পর এবার অবসরপ্রাপ্ত টেলিকম সংস্থার আধিকারিকও সঞ্চয়ের আট লক্ষ টাকা হারিয়ে অথই জলে পড়লেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ