নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মোদি সরকারের ১১বছরের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান দিতে গিয়ে শনিবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার। তৃণমূল সরকার জমি না দেওয়ায় ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেল প্রকল্প সম্পূর্ণ হচ্ছে না বলে সুভাষবাবু অভিযোগ করেন। রাজ্য প্রতিনিধি না পাঠানোয় গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্প আটকে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শনিবার বাঁকুড়া শহরের একটি হোটেলে বিজেপির তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে সুভাষ সরকার ছাড়াও দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মিডিয়া ইন-চার্জ অঙ্কিতা কুণ্ডু, বিজেপি নেত্রী রুমেলা চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। সুভাষবাবু বলেন, আমাদের সরকার প্রথমে ১০০দিনের ও পরে বছর বছর উন্নয়নের তালিকা জনসমক্ষে তুলে ধরে। নোট বাতিল থেকে করোনার লকডাউন ঘোষণা, সবক্ষেত্রেই দেশবাসী কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে থেকেছে। তিনি বলেন, আয়ুষ্মান ভারত এরাজ্যে চালু হলে পশ্চিমবঙ্গবাসীদের সুবিধার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের প্রিমিয়াম বাবদ রাজ্যের প্রায় ৬০শতাংশ টাকা বেঁচে যাবে। ক্যাগের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্য সরকার দু’লক্ষ কোটি টাকার হিসেব দেয়নি। তৃণমূল দুর্নীতি, তোষণ ও স্বজনপোষণ করতেই ব্যস্ত রয়েছে। বাঁকুড়ার সাংসদ তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অরূপ চক্রবর্তী বলেন, সুভাষবাবু ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। বাঁকুড়ার ওই দুই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করার জন্য আমি একাধিকবার কেন্দ্রীয় রেল ও জলসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। উনি মন্ত্রী থাকাকালীন এবিষয়ে উদ্যোগী হননি। ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জন্য ৭০শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। বাকি জমি অধিগ্রহণের জন্য এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার কানাকড়িও বরাদ্দ করেনি। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁও লোকসভায় গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্পের দাবি তুলেছিলেন। তারপরেও কেনও বিজেপি সরকার এব্যাপারে অগ্রসর হয়নি? জঙ্গলমহলে ভোট পায় না বলেই কি বিজেপির উন্নয়ন নিয়ে এত অনীহা? রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যের প্রাপ্য টাকাও দিচ্ছে না।



