সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মান অভিমান ভুলে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে অংশগ্রহণ করুক আদিবাসীরা। এমনটাই বার্তা দিল প্রশাসন। বাঁকুড়া জেলার তিনটি জায়গায় আজ, বৃহস্পতিবার থেকে চারদিন ধরে অনুষ্ঠান চলবে। ৪৮টি দলকে দেওয়া হবে ধামসা মাদল। যদিও নানা দাবিতে আদিবাসীদের একটি যৌথ মঞ্চের তরফে অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। জেলা অনগ্রসর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বিশ্ব আদিবাসী দিবসে ধামসা মাদল বিলির পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের গুণীজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মঞ্চে আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু, আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে নানা বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চের তরফে ওই অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে দু’পক্ষই চাইছে আলোচনার মাধ্যমে মান অভিমান নিরসন হোক। আদিবাসীদের সম্মানের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুক।
অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের বাঁকুড়া জেলা আধিকারিক সন্টু দাস বলেন, বিষ্ণুপুরের একটি আদিবাসী সংগঠনের তরফে সরকারি অনুষ্ঠান বয়কটের ব্যাপারে একটি চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশ মতো আমরা অনুষ্ঠানের যাবতীয় আয়োজন করছি। আমরা চাই যাঁদের জন্য আয়োজন, মান অভিমান ভুলে তাঁরা সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন।
ইউনাইটেড ফোরাম অব অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনের জয়েন্ট কনভেনর তপনকুমার সর্দার বলেন, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার্থে সরকারের তরফে আমাদের সঙ্গে কোনওদিন আলোচনা করা হয়নি। কেবলমাত্র সরকারি অনুষ্ঠানের সম্পন্ন করতে আমাদের ডাক পড়ে। সেই জন্য সংগঠনের তরফে বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে নানা অনুষ্ঠান হয়। এবারও প্রশাসনের তরফে তার আয়োজন করা হয়েছে। ওই উপলক্ষ্যে বাঁকুড়া জেলায় খাতড়া, সারেঙ্গা ও ছাতনায় চারদিন ধরে অনুষ্ঠান হবে। আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। সেখানে আজই আদিবাসীদের বিভিন্ন দলকে এক সেট করে ধামসা মাদল দেওয়া হবে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের গুণীজনদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এছাড়াও আদিবাসী সঙ্গীত, নৃত্য, আলোচনা সভা প্রভৃতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। তিনটি জায়গায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ব্লকভিত্তিক ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। খাতড়ার অনুষ্ঠানে খাতড়া, হীড়বাঁধ, সিমলাপাল, তালডাংরা, ইন্দপুর ও বিষ্ণুপুর এই ছ’টি ব্লকের আদিবাসীরা সম্প্রদায়ের মানুষজন অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে ওই এলাকার মোট ২২টি দলকে এক সেট করে ধামসা মাদল দেওয়া হবে। একইভাবে সারেঙ্গার অনুষ্ঠানে সারেঙ্গা, রাইপুর, সোনামুখী, পাত্রসায়র, জয়পুর ও কোতুলপুর এই ছ’টি ব্লকের ১৫টি দলকে ধামসা মাদল দেওয়া হবে।
ছাতনার অনুষ্ঠানে বাঁকুড়া-১, বাঁকুড়া-২, বড়জোড়া, ওন্দা, ছাতনা, গঙ্গাজলঘাটি, মেজিয়া ও শালতোড়া এই ৮টি ব্লকের মোট ১১টি দলকে ধামসা মাদল দেওয়া হবে।