নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তিস্তা পাড়ে বাস, ভাবনা বারোমাস! সাত দশকের জীবনে তিস্তার অনেক ভাঙা গড়া দেখেছেন। আর এটা দেখতে দেখতেই ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির রহস্য খুঁজে পেয়েছেন জলপাইগুড়ির বনমালী সরকার। তিস্তায় সাঁতার কেটে ভূমিধস, বন্যায় ভেসে আসা গাছের ডালপালা, কাঠ সংগ্রহ করেন তিনি। তারপর সেই পরিত্যক্ত কাঠকে পশুপাখি, দেবদেবী কিংবা মনীষীর রূপ দেন। বনমালীর তৈরি অনবদ্য সেসব ভাস্কর্য দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন সমাদৃত বিদেশেও।
কুমোরটুলিতে যেমন থরে থরে সাজানো থাকে প্রতিমা, তেমনই বনমালীর কারখানায় রয়েছে তিস্তায় ভেসে আসা হাজার হাজার পরিত্যক্ত কাঠ, গাছের ডালপালা। খাওয়া, ঘুম ভুলে সেসব পরিত্যক্ত কাঠকে অনবদ্য সৃষ্টিতে মেতে থাকেন বনমালী। শুধু নিজে নয়, বর্তমান প্রজন্মকেও কাটুম কুটুমের কাজ শেখাতে তিস্তা পাড়ে নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন পাঠশালা। বনমালীর শিল্পকর্ম দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, বিদেশ থেকেও মানুষজন আসেন। ঘরে ঠাসা শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হয়ে যান তাঁরা।