সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ‘ত্রাস’ দাঁতাল হাতি বাঁয়া গণেশকে রবিবার সাড়ে চার কিমি পথ তাড়া করে জঙ্গলে ফেরালেন বনকর্মীরা। এদিকে, শনিবার রাতে মাদারিহাট রেঞ্জ ও লংকাপাড়া রেঞ্জের জঙ্গলে হাতির করিডরের রাস্তা থেকে মদের বোতল, প্লাস্টিকের গ্লাস ও জলের বোতল বনকর্মীরা উদ্ধার করেন। দুই মদ্যপ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে রাতে বাড়িতে পৌঁছে দেন তাঁরা।
রবিবার সকালে বাঁয়া গণেশ মাদারিহাটের সীমানায় ফালাকাটার দলগাঁও বস্তিতে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে মাদারিহাট রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বনকর্মীরা সেখান থেকে দাঁতালটিকে ফালাকাটার কড়াইবাড়ি, মাদারিহাটের ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে, গোপালপুর ও দলমোড় চা বাগান হয়ে তাড়া করে ধুমচির জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেয়। সাড়ে চার কিমি রাস্তা তাড়া করে সফলভাবে জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেওয়ার পর স্বস্তি ফিরে আসে সব মহলে। যদিও হাতিটি কারও কোনও ক্ষয়ক্ষতি করেনি।
গত এক মাসে হাতির হামলায় মাদারিহাটে একটি শিশু ও তিন মহিলা সহ ছ’জন মারা গিয়েছেন। তারপর থেকেই জঙ্গলে না প্রবেশ করতে ও জঙ্গলের আশপাশে না যেতে ধারাবাহিকভাবে মাইকে প্রচার চালাচ্ছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। আশপাশে থাকা সমস্ত বনবস্তি, লোকালয় ও চা শ্রমিক মহল্লায় বনদপ্তরের এই প্রচার চলছে।
কিছুদিন আগে মাদারিহাটের জামতলায় গভীর রাতে হাতির করিডর তিতি নদীর বাঁধে শুয়ে থাকা এক ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে ঘুম থেকে তুলে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন বনকর্মীর। মধ্য খয়েরবাড়িতে হাতির করিডরে পড়ে থাকা মদ্যপ এক মহিলাকেও উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বন্ধ হয় নি জঙ্গলে ঢোকা। হাতির করিডরে কখনও মদ্যপ অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়া তো কখনও মদ খেয়ে কাপ, মদ ও জলের বোতল ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা চলছেই। ফের তার প্রমাণ মিলল শনিবার রাতে মাদারিহাট ও লংকাপাড়া রেঞ্জের জঙ্গলে মদের বোতল ও দুই মদ্যপ ব্যক্তি উদ্ধারের ঘটনায়।
এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান। ডিএফও বলেন, এত প্রচারের পরেও মানুষের যদি সত্যিই হুঁশ না ফেরে তাহলে আর কিছু করার নেই। আমরা হতাশ। কারণ জঙ্গলে এই ধরনের অবাঞ্চিত ঘটনার জন্য কাউকে তো জরিমানা বা গ্রেপ্তার করা যায় না।
মাদারিহাটে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতে লাগাম টানতে জাতীয় উদ্যানের ন’টি রেঞ্জ এলাকায় বনকর্মীদের ২৫টি দল কাজ করছে। দিন-রাত নজরদারি চলছে বন্যপ্রাণীদের উপর। কিন্তু বনদপ্তরের দাবি, মুশকিল হল হাতির পাল ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে একদিকে হাতি তাড়াতে গেলে অন্যদিকে ঢুকছে হাতি। • বাঁয়া গণেশ। - নিজস্ব চিত্র।