Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতির হানা রুখতে এবার গোপীবল্লভপুর থেকে বেলপাহাড়ী সীমানায় বনপ্রাচীর গড়বে বনদপ্তর

ঝাড়গ্রামে বে‌঩ড়ে চলেছে হাতির হানা। জেলার নানা প্রান্তে হাতির হামলায় নিরীহ গ্ৰামবাসীর বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে। রাতবিরেতে বাড়ি ভাঙচুর থেকে ভাঁড়ারের জিনিসপত্র লন্ডভন্ডের মতো ঘটনা ঘটছে আকছার।

হাতির হানা রুখতে এবার গোপীবল্লভপুর থেকে বেলপাহাড়ী সীমানায় বনপ্রাচীর গড়বে বনদপ্তর
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে বে‌঩ড়ে চলেছে হাতির হানা। জেলার নানা প্রান্তে হাতির হামলায় নিরীহ গ্ৰামবাসীর বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে। রাতবিরেতে বাড়ি ভাঙচুর থেকে ভাঁড়ারের জিনিসপত্র লন্ডভন্ডের মতো ঘটনা ঘটছে আকছার। হাতি নিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে বনবিভাগ রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বনবিভাগের তরফে জামবনী ব্লকের গিধনীতে বনাঞ্চল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোপীবল্লভপুর থেকে বেলপাহাড়ী এলাকার দীর্ঘ সীমারেখায় বনপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে। পনেরো হাজার কাঁঠাল, বাঁশগাছ ও ফাইকাসের চারা লাগানোর প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, জেলার পশ্চিম অংশের বনভূমি এলাকাকে হাতির বিচরণক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে দু’টি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গিধনীতে বনাঞ্চল বাড়ানোর সঙ্গে গোপীবল্লভপুর থেকে বেলপাহাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ সীমানায় বনপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে। কাঁঠাল, বাঁশ ও ফাইকাস জাতীয় গাছ দিয়ে এই বনপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে। কিছুদিনের মধ্যেই গাছের চারা লাগানোর কাজ শুরু হবে। 

Advertisement

বনবিভাগের কর্তাদের বক্তব্য, বৃহত্তর এই পরিকল্পনার প্রাথমিক উদ্যোগ আগেই নেওয়া হয়েছিল। বন বিভাগের বিট অফিস সংলগ্ন জমিতে নানা ধরনের গাছের চারা লাগানো হয়েছিল। বর্ষার মরশুমে গাছগুলো লাগানো হবে। বনবিভাগের আধিকারিরা মানছেন, এই উদ্যোগে সাফল্য পেতে সময় লাগবে। হাতির হানা রুখতে সেই কারণে আপৎকালীন ছোট-ছোট পদক্ষেপ করার কাজ শুরু হয়েছে। ঝাড়গ্রামের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে জনবসতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তুলনায় পশ্চিম অংশে জনবসতি কম। বনভূমির ঘনত্ব জেলার বাকি অংশের তুলনায় এখানে বেশি। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের বাঁশপাহাড়ী, ভুলাভেদা, বেলপাহাড়ী, শিলদা, জামবনী, গিধনী, পড়িহাটি, ঝাড়গ্রাম, লোধাশুলি, মানিকপাড়া, গোপীবল্লভপুর ও হাতিবাড়িয়ার বনাঞ্চল এলাকায় শালগাছের বনভূমি বেড়েছে। পর্যাপ্ত খাবার ও জলের ব্যবস্থা করলে হাতির পাল এই এলাকায় বিচরণ করবে। হাতির পালকে ফসলি জমি ও ঘনবসতি এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব হবে। উত্তর-পশ্চিম অংশের ময়ূরঝর্ণার সংরক্ষিত এলাকায় হাতির পালকে সহজে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। 
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের এক আধিকারিক বলেন, বনাঞ্চল এলাকায় শালগাছের সংখ্যা বাড়লেও হাতির খাবারের প্রয়োজনীয় গাছ এখানে ছিল না। সেই লক্ষ্যে ফল, বাঁশ ও ফাইকাস জাতীয় গাছ এখানে লাগানোর কাজ শুরু হচ্ছে। এই উদ্যোগ জেলার বনাঞ্চলের চরিত্র চিরতরে বদলে দেবে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের প্রাক্তন কর্তা সমীর মজুমদার বলেন, ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের এই উদ্যোগ বাস্তবসম্মত। জেলার পশ্চিম অংশে বনপ্রাচীর গড়ে তোলা হলে হাতির পাল স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র পাবে। সেইসঙ্গে জঙ্গলে পর্যাপ্ত খাবারও পাবে ওরা। তবে এই প্রচেষ্টার সুফল পেতে সময় লাগবে। বেলপাহাড়ীর এক বাসিন্দা বলেন, এখানকার জঙ্গলে বাঘ ঢুকে পড়ার খবর মিলছে। ভল্লুকেরও দেখা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগে রয়েছেন। হাতির পালকে এই এলাকায় ঠেলে দেওয়া হলে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। বন বিভাগের কাছেও বিষয়টি অজানা নয়। তবে হাতির সমস্যা সমাধানের  প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ