Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নগরবনের দায়িত্ব ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনকে দিতে চাইছে বনদপ্তর

অর্থের অভাবে পরিচর্যা বন্ধ। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচে তৈরি বিষ্ণুপুরের নগরবন ধ্বংসের মুখে। তাই নগরবনের দায়িত্ব ছাড়তে চাইছে বনদপ্তর।

নগরবনের দায়িত্ব ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনকে দিতে চাইছে বনদপ্তর
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: অর্থের অভাবে পরিচর্যা বন্ধ। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচে তৈরি বিষ্ণুপুরের নগরবন ধ্বংসের মুখে। তাই নগরবনের দায়িত্ব ছাড়তে চাইছে বনদপ্তর। পরিবর্তে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের হাতে নগরবনকে ছেড়ে দিতে চাইছে তারা। সম্প্রতি বনদপ্তরের তরফে  কর্পোরেশনের কাছে ওই মর্মে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বনদপ্তরের বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত ডিভিশনের আধিকারিক অভিজিত কর বলেন, অর্থের অভাবে নগরবনের পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছে না। সেজন্য দপ্তরের অধীন ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্টকে নগরবনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নগরবনে যাতে কটেজ সহ অন্যান্য উপকরণ গড়ে পর্যটনের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সেই প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, প্রায় পাঁচ বছর আগে বিষ্ণুপুর শহরের উপকণ্ঠে লালগড় প্রকৃতি উদ্যানের সামনে প্রায় ১০হেক্টর জায়গা নিয়ে ‘নগরবন’ প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হয়। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। নগরবনে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁদের প্রিয়জনদের নামে গাছ লাগানোর জন্য সেখানে স্মৃতিবন নামে একটি পৃথক ব্লক করা হয়। বিভিন্ন নক্ষত্রের নামে গাছ লাগিয়ে ‘নক্ষত্রবন’ ব্লক করা হয়। এছাড়াও ভেষজ উদ্যান সহ, জলাশয়ে জলজ উদ্ভিদ, ফলের গাছ, শিশুদের খেলনা প্রভৃতি পরিকাঠামো বানানো হয়। এমনকি, ওই বনে ঢোকার জন্য ছোটোদের ৫টাকা ও বড়োদের ১০টাকা টিকিট করা হয়। তার জন্য টিকিটঘরও তৈরি করা হয়। চারদিক বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়। বড়ো গেট করা হয়। কিন্তু, একবছর চলার পর পরিচর্যার অভাবে ধীরে ধীরে নগরবনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন গেটের দরজা বন্ধ থাকায় বর্তমানে ঝোঁপঝাড়ে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিষ্ণুপুরে আসা পর্যটকরা সেখানে গিয়ে নগরবনের দশা দেখে হতাশ হচ্ছেন। তাই বনদপ্তর নগরবনের দায়িত্ব দপ্তরের অধীনস্ত কর্পোরেশনের হাতে দিতে চাইছে।  দপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বনকেন্দ্রিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করে। ওই খাতে তাদের পৃথক অর্থ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু, বনদপ্তরের কাছে ওই সংক্রান্ত কোনও ফান্ড নেই। অর্থের জন্য দপ্তরের তরফে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। তাই কয়েক বছর ধরে নগরবনের পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছে না। সেজন্য নগরবনকে কর্পোরেশনের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নগরবনের বর্তমান অবস্থা সহ বিস্তারিত রিপোর্ট কর্পোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটনের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কটেজ সহ অন্যান্য পর্যটন উপকরণে সাজিয়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ