Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘের হামলা রুখতে জাল দিয়ে ঘিরছে বনদপ্তর

চা বাগানে চিতাবাঘের হামলা রুখতে জাল দিয়ে ঘিরছে বনদপ্তর। বানারহাটের কলাবাড়ি চা বাগান এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে নাইলনের জাল টাঙানোর কাজ শুরু হয়েছে।

চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘের হামলা রুখতে জাল দিয়ে ঘিরছে বনদপ্তর
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: চা বাগানে চিতাবাঘের হামলা রুখতে জাল দিয়ে ঘিরছে বনদপ্তর। বানারহাটের কলাবাড়ি চা বাগান এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে নাইলনের জাল টাঙানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই মডেল সফল হলে চিতাবাঘ উপদ্রুত অন্য স্থানেও চা বাগান সংলগ্ন এলাকা জাল দিয়ে ঘেরা হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন।

Advertisement

সম্প্রতি ডুয়ার্সের কলাবাড়ি, আংরাভাসা, খেরকাটা সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় চা শ্রমিক মহল্লায় বারবার চিতাবাঘের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুও হয়েছে চারজন শিশু ও কিশোর-কিশোরীর। এরপরই কলাবাড়ি, আংরাভাসাকে কেন্দ্র করে ১০ কিমি এলাকাকে ‘চিতাবাঘ উপদ্রুত’ এলাকা বলে ঘোষণা করা হয় বনদপ্তরের তরফে। ওই এলাকার চিতাবাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বসানো হয় ট্র্যাপ ক্যামেরা। একইসঙ্গে খাঁচা পাতে বনদপ্তর। সবমিলিয়ে ওই এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত সাতটি চিতাবাঘ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি চিতাবাঘকে খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলিকে ছেড়ে আসা হয়েছে দূরের জঙ্গলে। কিন্তু তারপরও চিতাবাঘের হামলা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছে না বনদপ্তর। আর সেকারণে চা বাগান এলাকায় জাল দিয়ে ঘেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, সুন্দরবনে বাঘের হামলা ঠেকাতে এভাবে জাল দিয়ে ঘেরার কাজ হয়েছে। ওই মডেল অনুসরণ করে আমরাও পরীক্ষামূলকভাবে বানারকাটের কলাবাড়ি চা বাগান এলাকায় নাইলনের ফেন্সিং দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। যদি এই মডেল সফল হয়, ভবিষ্যতে অন্যত্র তা কার্যকর করা হবে।
কিন্তু চিতাবাঘের হামলা ঠেকাতে নাইলনের জাল কি যথেষ্ট? ডিএফওর বক্তব্য, এমনিতে চিতাবাঘের যা শারীরিক ক্ষমতা কিংবা তাদের যা গতি, তাতে নাইলনের জাল ছিঁড়ে ফেলা কোনও ব্যাপার নয়। কিন্তু যখন জঙ্গল থেকে চা বাগানের দিকে এগতে গিয়ে ওই জালে বাধা পাবে চিতাবাঘ, তখন তাদের মধ্যে মানসিকভাবে একটা প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। এতে চিতাবাঘ আর সামনের দিকে না এগিয়ে ফিরে আসবে, এমনটাই হওয়ার কথা। এখন বাস্তবে কী হয়, সেটা দেখার জন্যই পরীক্ষামূলকভাবে জাল দিয়ে ঘেরার কাজ শুরু হয়েছে।
ডুয়ার্সে চা বাগান এলাকায় যে চিতাবাঘের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। বহু চা বাগান একেবারে জঙ্গল লাগোয়া। শুধু তাই নয়, চা বাগানের গা ঘেঁষে রয়েছে শ্রমিক মহল্লা। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গল থেকে চিতাবাঘ বেরিয়ে চা বাগানের ভিতর দিয়ে সহজেই শ্রমিক মহল্লায় ঢুকে পড়ছে। বনদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, চা বাগান ও শ্রমিক মহল্লার মধ্যে যদি মাঝে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়, তাহলে চিতাবাঘের হানার আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমতে পারে। তাছাড়া অনেক চা বাগানে শ্রমিক মহল্লায় হাঁস-মুরগি কিংবা ছাগল পালন করা হচ্ছে। ফলে সহজে সেগুলি শিকারের লোভে চিতাবাঘ চলে আসছে। শ্রমিকরা যাতে বসতঘরের সঙ্গে হাঁস-মুরগি কিংবা গবাদি পশু না রাখেন, সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই মাইকিং শুরু করেছে বনদপ্তর। 
  জাল দিয়ে ঘেরার কাজ চলছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ