নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে খেমাশুলি পর্যন্ত রেললাইনের দু’ধারে লোহার গার্ড রেল বসানো হচ্ছে। রেলের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওই রেলপথে হাতির চলাচলের একাধিক করিডর রয়েছে। ওই পথ বন্ধ হয়ে গেলে হাতির পাল জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামের রাস্তা ধরলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের তরফে গার্ডরেল বসানো বন্ধ করার জন্য রেলকে চিঠি দিয়েছে।
ঝাড়গ্রাম বনদপ্তরের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, আমাদের সঙ্গে কোন আলোচনা না করেই খেমাশুলি থেকে ঝাড়গ্রাম স্টেশনের আগে পর্যন্ত রেললাইন বরাবর গার্ডরেল দিয়ে দু’পাশ ঘেরা হচ্ছে। ফলে হাতি চলাচলের করিডর বন্ধ হয়ে যাবে। খড়্গপুর ডিভিশনের ডিআরএমকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের বাঁশতলা স্টেশনের কাছে রেল লাইন পার করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মা সহ দুই হস্তি শাবকের মৃত্যু হয়েছিল। গত ১৮ জুলাই ভোররাতে ঘটনাটি ঘটেছিল। এর দায় কার তা নিয়ে বনদপ্তর ও রেলের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশন ও রাজ্য বনদপ্তরের শীর্ষকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলোচনায় বসেন। ঝাড়গ্রাম বনদপ্তরের পক্ষ থেকে রেললাইনে হাতি মৃত্যু বা দুর্ঘটনা ঠেকাতে ট্রেনের গতি কমানো, সফট পেডিং, জোরে বারে বারে হর্ন দেওয়া সহ বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। হাতির পাল খেমাশুলি,সড়ডিহা,বাঁশতলা ও ঝাড়গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেলপথ পারাপার করে।
এই রেলপথ হল হাতির একটি উল্লেখযোগ্য করিডর। চলাচলের চেনা পথ বন্ধ হলে রেল লাইনের দু 'পাশে থাকা গ্ৰামের মানুষ বিপদে পড়বেন। গ্ৰামগুলিতে হাতির হানা আরও বেড়ে যাবে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রাণহানির ঘটনাও বাড়বে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ রেলকে কাজ বন্ধের জন্য চিঠি দিয়েছে।
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের এক প্রাক্তন আধিকারিক বলেন, দলমা থেকে হাতির পাল আসা ঠেকতে জেলায় ট্রেঞ্চ খোঁড়া হয়েছিল। যার জেরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতির পাল যাতায়াতের পথ করে নিয়েছিল। জেলার মানুষ তার জের এখনও ভুগে চলেছেন। বিভিন্ন প্রান্তে বাড়িঘর ভাঙচুর, ফসল নষ্টের ঘটনা ঘটছে। প্রাণহানি লেগেই আছে। জেলার পশ্চিমের গ্ৰামগুলি এবার একই সমস্যায় পড়তে চলেছে। গার্ডরেল বসিয়ে রেললাইন ক্ষয়ক্ষতি রুখতে গিয়ে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলা দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিশান্ত কুমার বলেন, গার্ডরেলের মাঝে প্যাসেজ রাখা হচ্ছে। বনবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই কাজ করা হচ্ছে। যদি কোনও সমস্যা হয় তাহলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করা হবে।