নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: জঙ্গলমহলের রেলপথ হাতির মৃত্যু ফাঁদ হয়ে উঠেছে । একদশকে একের পর এক হাতির মৃত্যু হয়েছে। তারপরেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ হাতির মৃত্যু ঠেকাতে রেলদপ্তরের কাছে রেললাইনে ওভার ,আন্ডারপাসের পাশাপাশি আই ডি এস প্রযুক্তি চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে ।
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন , বাঁশতলা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সদ্য দু’টি শাবক ও মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায়না। রেলপথে হাতির মৃত্যু ঠেকাতে রেলদপ্তরের কাছে বারবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের বনমন্ত্রকের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বাঁশতলা স্টেশন সংলগ্ন রেল গেটের কাছে তিনটি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জঙ্গলমহলে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু নতুন নয়। ঝাড়গ্রামের সরডিহা খেমাশুলির মাঝে ২০১৩ সালে সন্ধ্যাবেলায় ডাউন হাওড়া বড়বিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ১টি পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়েছিল। বাঁকড়াজেলার পিয়ারডোবা স্টেশনের কাছে ২০১৬ সালে রাতে খড়গপুর -আদ্রা প্যাসেঞ্জারের ধাক্কাঢ় দুটি শাবকসহ তিনটি হাতির মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে জামবনীর ডুমুরিয়া এলাকায় গিধনি ও কানিমহলি স্টেশনের মাঝে একটি শাবক ও দুটি পূর্ণবয়স্ক হাতির কাটা পড়ে মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে গড়বেতা স্টেশন থেকে দুই কিমি দূরে রাত ৮ টা নাগাদ মালগাড়ির ধাক্কায় একটি শাবক হাতির মৃত্যু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাতে হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ট্রেনের ধাক্কায় বারবার হাতির মৃত্যু ঘটলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জঙ্গলমহলের দীর্ঘ রেলপথ এলাকায় ১০০ টির মতো দুর্ঘটনাপ্রবণ জায়গা রয়েছে। এই জায়গাগুলোয় ২০২৩ সালেই রেল ও বনদপ্তর ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম (আইডিএস) বসানো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছিল। দক্ষিণবঙ্গে সমীক্ষা পর্যন্ত করা হয়। অজ্ঞাত কোনও কারণে বিষয়টির অগ্ৰগতি হয়নি। আইডিএস প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হলে রেল লাইনের দু' পাশে হাতির পায়ের চাপ পড়ে। সেন্সরের সতর্ক বার্তা রেলের কন্ট্রোলরুমে দ্রুত পৌঁছে যায়। হাতি পারাপারে সময় আগাম ট্রেন থামিয়ে দেওয়া যায়।
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের তরফে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ওভার ও আন্ডারপাসের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের এক আধিকারিক বলেন, স্টেশন ও রেলগেটগুলোর কাছে একাধিক তারের ফেন্সিং রয়েছে সেগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে দীর্ঘ রেললাইনের দু'পাশের উঁচু নিচু জমি আছে। সেগুলোকে সমান করার বিষয়টি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে। রেলপথে হাতির মৃত্যু ঠেকাতে হলে প্রস্তাবগুলি কার্যকর করা দরকার। জেলার বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের এক কর্মী বলেন, জঙ্গলমহলে পরিকাঠামো উন্নয়নে জঙ্গলের উপর হাত পড়ছে। হাতির পাল এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে খাবারের সন্ধানে যায়। রেললাইন, সড়কপথে পার হতে হয়। সার্বিক এই উন্নয়নে হাতির কথা ভাবা হয়নি। মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে রেল ও বন বিভাগের আধিকারিরা ঘটনাস্থলে ছুটছেন। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ঝাড়গ্রামের ডি এফও উমর ইমাম বলেন, রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু ঠেকাতে রেলদপ্তরের কাছে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আইডিএস প্রযুক্তির ব্যাবহার হলে উত্তরবঙ্গের মতো এখানেও হাতির মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছি।