Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা বনদপ্তরের

গ্রাম বাংলার চারিপাশে তাকালেই এক সময়ে তাল গাছের শোভা নজরে আসত। বজ্রপাত রোধে তালগাছের গুরুত্ব অপরিসীম।

বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা বনদপ্তরের
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: গ্রাম বাংলার চারিপাশে তাকালেই এক সময়ে তাল গাছের শোভা নজরে আসত। বজ্রপাত রোধে তালগাছের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে তালগাছ কমে যাওয়ায় বেড়েছে বজ্রপাতে মৃত্যু। তাই বনদপ্তর তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী বর্ষায় দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় বনদপ্তরের তরফে প্রায় ৭৫ হাজার তালগাছের চারা রোপণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। 

Advertisement

রাজ্যের মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ-পশ্চিম চক্র) বিদ্যুৎ সরকার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় ৭৫ হাজারের বেশি তালগাছের চারা রোপণের কথা রয়েছে। চার জেলায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এলাকায় তালগাছের চারা রোপণ করা হবে।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধে সাহায্য করে। গাছটি প্রাকৃতিক আর্থিং হিসেবে কাজ করে। গাছের উচ্চতা ১০০ ফুটেরও বেশি হয় এবং গাছের শিকড় মাটির অনেক গভীরে যায়। তাই বজ্রপাতের সময় গাছটি একটি প্রাকৃতিক পরিবাহী হিসেবে কাজ করে বজ্র আকর্ষণ করে নেয় এবং মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। তাই বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকায়, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গার আশেপাশে এই গাছ লাগানো উচিত। বনদপ্তরের প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, দপ্তরের তরফ থেকে বাঁকুড়ার কেন্দ্রীয় চক্র, পুরুলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম চক্র, বীরভূম এবং বর্ধমানের দক্ষিণ-পূর্ব চক্রে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে তালগাছের চারা লাগানো হবে। রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (অর্থ) তথা প্রকল্পের নোডাল অফিসার রাজু দাস গত ২৩ সেপ্টেম্বর বন দপ্তরের তিনটি চক্রের অধিকারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভার্চুয়ালি একটি বৈঠক করেছেন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বছরে ৬০ থেকে ৭০ জন বজ্রপাতে মারা যাচ্ছে। যার অন্যতম কারণ তাল, খেজুর গাছ কমে যাওয়া।  পুরুলিয়া জেলার বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মোট ৩০০ কিমি পথে তালের চারা লাগানো হবে। যার মধ্যে বাঁকুড়া জেলায় ১৫০ কিমি, পুরুলিয়া জেলায় ১০০ কিমি এবং বর্ধমান ও বীরভূম জেলায় ৫০ কিমি পথ চিহ্নিত করা হয়েছে। বনভূমি নয়, এমন রাস্তার ধারে ৪ মিটার অন্তর অন্তর চারাগুলি রোপণ করা হবে। ইতিমধ্যে চারা তৈরির জন্য বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সফল হলে আগামী দিন প্রজেক্টটি সারা রাজ্যজুড়ে কাজে লাগানো হবে। এলাকার শিক্ষক উজ্জ্বল গোপ, শান্তকুমার সোরেন বলেন, বিজ্ঞান বলছে তালগাছ বেশি থাকলে বজ্রপাতে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। বর্তমানে তালগাছের সংখ্যা কমতে থাকায় বজ্রপাতে মৃত্যু 
বাড়ছে। প্রশাসনের তালগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ