Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুখিয়া-মিরিক রুটে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়তে তৎপর বনদপ্তর, জমির খোঁজ

সুখিয়া-মিরিক রুটে হবে নতুন পর্যটন কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার দেড় মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে ঝাঁপিয়েছে প্রশাসন।

সুখিয়া-মিরিক রুটে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়তে তৎপর বনদপ্তর, জমির খোঁজ
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সুখিয়া-মিরিক রুটে হবে নতুন পর্যটন কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার দেড় মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে ঝাঁপিয়েছে প্রশাসন। বনদপ্তর ও জোড়বাংলো-সুখিয়াপোখরি ব্লক প্রশাসন যৌথভাবে বেশকিছু জায়গা পরিদর্শন করেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, নতুন বছরের শুরুতেই লামাহাটার আদলে নয়া পর্যটন কেন্দ্র তৈরির কাজে হাত দেওয়া হতে পারে। যা পর্যটকদের কাছে নতুন উপহার হয়ে উঠবে। মিলবে ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দর্শন ও পর্যটনের স্বাদ। 

Advertisement

গত ৪ অক্টোবর প্রবল বর্ষণ ও ধসের জেরে পাহাড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই ঘটনার পর ১৪ অক্টোবর সুখিয়াপোখরি হয়ে মিরিকে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি জোড়বাংলো-সুখিয়াপোখরি বিডিও অফিসে ফিরে ঘোষণা করেছিলেন সুখিয়াপোখরি-মিরিক রুটে পশুপতি ফটকের আশপাশে লামাহাটার আদলে ইকো ট্যুরিজম সেন্টার তৈরি করা হবে। তা নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন ও বনদপ্তর। সংশ্লিষ্ট রুট বনদপ্তরের দার্জিলিং ডিভিশনের অধীনে। 
দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ওই পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করবে বনবিভাগ। তারা ঘোষিত এই প্রকল্পের জন্য জমি খুঁজছে। 
সুকিয়াপোখরি থেকে মিরিক। দার্জিলিং জেলার নেপাল সীমান্তবর্তী রুটগুলির মধ্যে এটা অন্যতম। আঁকাবাঁকা, চড়াই-উতরাই পাহাড়ি পথ। একদিকে পাইন, সেগুনের জঙ্গল। চা বাগান। সুখিয়াপোখরি থেকে পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই পথ ধরে কয়েক কিমি এগলেই পশুপতি ফটক। জমজমাট বাজার। সেখান থেকে ডান দিকে পাহাড়ের গা বেয়ে কিছুটা উঠলেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। এজন্য পশুপতি বাজারে এসএসবি এবং নেপাল আর্মি মোতায়েন রয়েছে। দু’দেশের বাসিন্দারা অবাধে যাতায়াতও করেন। পাহাড়ের এই এলাকায় ইদানিং পর্যটকরাও ভিড় করছেন। অনেকে নেপালে গিয়ে কেনাকাটাও করেন।  
প্রশাসনের আধিকারিকরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার জন্য সুখিয়াপোখরি থেকে পশুপতি ফটকের মাঝে রাস্তার ধারে তিনটি জায়গা দেখা হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে। সবুজ সংকেত মিললেই যেকোনও একটি জায়গায় পর্যটন কেন্দ্র গড়া হবে। লামাহাটামোর মতো এলাকাটি সাজিয়ে তোলা হবে। পর্যটকদের থাকার জন্য কিছু হোমস্টে করা হবে। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হবে। 
ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে জোড়বাংলো সুখিয়াপোখরির পর্যটন কেন্দ্র তাবাকোশি, সিওক সহ একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, বিপর্যয়ের পর দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর হিউমপাইপ সেতু চালু হয়েছে। এতে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। তাই পশুপতি ফটের কাছে পর্যটন কেন্দ্রটি চালু হলে পর্যটকরা সহজেই মিরিক হয়ে সেখানে পৌঁছতে পারতবেন। কিংবা সুখিয়াপোখড়ি ঘুরে পশুপতি ফটক, মিরিক হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছতে পারবেন। এতে পর্যটকদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হবে। তাবাকোশির মতো নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হবে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ