সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: রেল লাইনে বন্যপ্রাণীরা যাতে দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সোমবার রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করলেন বনদপ্তরের পুরুলিয়া ডিভিশনের ডিএফও সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। বৈঠকে বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এ বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান বনদপ্তরের আধিকারিকরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বনদপ্তরের পুরুলিয়া ডিভিশনের অফিসে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বনদপ্তরের কর্তারা। উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া ডিভিশনের ডিএফও অঞ্জন গুহ, এডিএফও সায়নী নন্দী সহ বনদপ্তরের একাধিক রেঞ্জার। সায়নী নন্দী জানান, এদিন রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়। হাতির করিডরের মধ্যে রেল লাইন রয়েছে তিরুলডি থেকে ভাইয়া সুইসা, তোরাং এবং ইলু হয়ে ঝাড়খণ্ডের সিলি পর্যন্ত। এছাড়াও রয়েছে কোটশিলা থেকে বেগুনকোদর হয়ে তুলিন পর্যন্ত। খুব দ্রুত ওই এলাকাগুলি রেলের সঙ্গে যৌথ ভাবে পরিদর্শন করা হবে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লোকেশনে বন্যপ্রাণীদের সম্পর্কে সতর্কতা বিষয়ক সাইন বোর্ড লাগানো হবে। এছাড়াও ওই এলাকাগুলি দিয়ে ট্রেন যাতায়াতের সময় স্পিড লিমিট কমানোর বিষয়েও রেল কর্তৃপক্ষ নজর দেবে। এছাড়াও ওই লাইন দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় হর্ন বাজিয়ে যাবে যাতে রেললাইন থেকে বন্যপ্রাণীরা বেশ খানিকটা দূরে থাকে। বনদপ্তরের পুরুলিয়া ডিভিশনের ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, অন্যান্য জেলাতে রেল এবং বনদপ্তরের মধ্যে কো-অর্ডিনেশন কমিটি থাকলেও পুরুলিয়ায় তা ছিল না। ওই কমিটির বিষয়ে সোমবার আলোচনা হয়েছে।
রেলের আদ্রা এবং রাঁচি ডিভিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং আরপিএফের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে রেল লাইনে একটি হাতির মৃত্যু হয়। পুরুলিয়া জেলাতে তিন-চার বছর আগে এরকম একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এরকম যাতে না হয়, তার জন্য আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করবে রেল এবং বনদপ্তর যৌথভাবে। অঞ্জনবাবু আরও বলেন, পুরুলিয়াতে জঙ্গল এলাকায় হাতি ছাড়াও অন্য বন্যপ্রাণীও রেল লাইন পারাপার করে। যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী দিনের রেলের চালকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। -নিজস্ব চিত্র