নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যের অন্যতম আধুনিক শহর দুর্গাপুর। বিধানচন্দ্র রায়ের স্বপ্নের নগরী এখন হেলথ ও এডুকেশন হাব। স্টিলসিটির বাসিন্দাদের জীবনযাবনও আধুনিক। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল পরিবারে বিনোদনের সব রসদই হাজির শহরে। হোটেল ও বারের পর এখন খুলেছে একাধিক ডান্সবার। পাশাপাশি শহরজুড়ে নেশাড়ুদের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে। অনেক নেশাড়ুর আবার শখ হচ্ছে রাতে ‘ফরেস্ট অ্যাডভেঞ্চার’এর। শহরের পাশেই রয়েছে গড়জঙ্গল। যুবকরা দামি গাড়ি নিয়ে রাতের জঙ্গলের সৌন্দর্য দেখতে আসছে। তাদের সঙ্গে থাকছে যুবতীরাও। অঘটনের আশঙ্কায় তা নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিস। মুচিপাড়া-জয়দেব রাস্তা পুলিসের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। রাতে জঙ্গল এলাকায় কোনও গাড়ি দাঁড়ালেই পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে। শহরের মানুষের নিত্যনতুন নেশার জ্বালায় নাভিশ্বাস উঠছে প্রশাসনের।
এসিপি সুমন জয়সওয়াল বলেন, রাতে নাকা চেকিংয়ে আমরাও থাকি। রাতে তো কেউ জঙ্গল দেখতে আসবে না। তাই বিষয়গুলি কড়া হাতেই মোকাবিলা করা হয়।
মুচিপাড়া-জয়দেব রাস্তাটির সৌন্দর্য উত্তরবঙ্গের কোনও পাহাড়ী এলাকার মতো। বিস্তীর্ণ রাস্তার দু’পাশে গভীর গড়জঙ্গল। আঁকাবাঁকা রাস্তা, ভ্রমণ পিপাসুদের যেন আরও আনন্দ দেয়। বর্ষায় এই রাস্তা আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। বহু নেশাড়ু নেশার টানে রাতেই সেই রাস্তার ও জঙ্গল উপভোগ করার হুজুগ চাপছে। যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিস। কিছুদিন আগে অতি স্বল্প পোশাকে থাকা এক যুবতী গভীর রাতে জঙ্গলের মাঝে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বমি করছিলেন। পুলিসের নজরে আসে বিষয়টি। তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামীও। তিনি সেনাবাহিনীর অফিসার। পুলিস মহিলার কাছে গিয়েই বুঝতে পারে, তিনি আকণ্ঠ মদ্যপান করেছেন। স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, তাঁদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছেন দুর্গাপুরে। সেখানেই স্ত্রী সুরাপান করার পর গড়জঙ্গল দেখার ইচ্ছে হয়। স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণ করতেই জঙ্গলে।
এই ঘটনা কোনও ব্যতিক্রম নয়। রাতে গড়জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করার হুজুগে মাতছেন আধুনিক প্রজন্মের অনেকে। তাই দামি গাড়ি অনেক সময়েই জঙ্গলের রাস্তা ধরে ছুটে চলছে। যে কোন সময়ে জঙ্গলে অঘটন ঘটে যেতেই পারে। যার জেরে বিষয়টি নজরদারি বাড়াতে রাশ টানতে চাইছে পুলিস। দুর্গাপুরে মাদক সেবন ও নিত্যনতুন সামগ্রী দিয়ে নেশা করার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, নতুন প্রজন্মের নানা ধরনের নেশা নিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।