সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার রাজুয়া গ্রামে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের তিনদিন পর সোমবার ঘটনাস্থলে এসে নমুনা সংগ্রহ করলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। বোমা তৈরিতে কত শক্তিশালী মশলা ব্যবহার করা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটিতে আর কোনও বিস্ফোরক রয়েছে কিনা তার তদন্তে সিআইডির বম্ব স্কোয়াডও সেখানে আসে। ঘটনার পর আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা। ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন বাসিন্দারা। অজয়ের পাড়ে রাজুয়া গ্রামে দুষ্কৃতীরা কী উদ্দ্যেশ্যে বোমা বাঁধছিল তা এখনও কিনারা করতে পারেনি পুলিস। কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি বলেন, ঘটনার পর যাতে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না হয়ে যায় তারজন্য ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি ত্রিপল ঢেকে রেখা হয়েছিল। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
গত ৪জুলাই রাতে রাজুয়া গ্রামের বাসিন্দা তুফান শেখ বোমা বাঁধার জন্য বীরভূমের নানুর থেকে কয়েকজন দুষ্কৃতীকে নিয়ে এসেছিল। বিস্ফোরণে নানুরের যুবক বরকত কারিকরের মৃত্যু হয়। জখম হয় তুফান শেখ। তার আরও দুই সহযোগী পলাতক। ঘটনার পর তুফানকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। ৬জুলাই বাড়ির মালিকের ছেলে আবুতাহার শেখ, আবুল কায়েম শেখ সহ গ্রামের বাসিন্দা নজরুল মোল্লা, জুমাত শেখ ও কেতুগ্রামের মাসুন্দির দুষ্কৃতী জমির শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই জমিরের মাধ্যমেই নানুরের বরকতের সন্ধান পেয়েছিল তুফান। বরকত টাকা দিলেই নিমেষে বোমা বাঁধতে পারত। আর নজরুল ও জুমাত এলাকায় পাহারা দিচ্ছিল।
এদিন সকাল ১১টা নাগাদ রাজুয়া গ্রামে প্রথম সিআইডির বম্ব স্কোয়াড আসে। কোথাও বিস্ফোরক লুকিয়ে রয়েছে কিনা তারা পুরো বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাড়িটি থেকে আর কোনও বোমা বা বিস্ফোরক মেলেনি। তবে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণস্থল থেকে নাকি একটি কাটা আঙুল পেয়েছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। যা দেখে অনুমান করা হচ্ছে সেটি মৃত বরকত কারিকরের হতে পারে। ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে বলে এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বোমা বাঁধতে কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল তার নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তবে অনেকেই বলছেন, ঘটনার তিনদিন পর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এসেছেন। রবিবার রাতে এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। বিস্ফোরণস্থলও ভিজে রয়েছে। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখলেও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। কেতুগ্রামের চেঁচুড়ি গ্রামেও এর আগে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল। সেখানে ঘটনার ন’দিন পর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন। এক পুলিস অফিসার জানান, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের রাজ্যের নানা প্রান্তে যেতে হয়। তাই তাঁদের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া পাওয়া যায় না।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, লাল ও সাদা পাউডার, পোড়া মোবিল দিয়ে বোমা তৈরি করলে তা শক্তিশালী হয়। ঘটনাস্থলে পোড়া মোবিল পাওয়া গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বড়সড় কোনও পরিকল্পনা ছিল দুষ্কৃতীদের? এদিন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। গ্রামে আর কোথাও বোমা লুকিয়ে রয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না। গ্রামের শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করে বেড়ায়। কোথাও আবার বিস্ফোরণ হলে তার দায় কে নেবে?