তিরুপতি: খামার মালিকের থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন স্বামী। হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও সেই টাকা শোধ করতে পারেনি ওই ব্যক্তির স্ত্রী। এজন্য তাঁর তিন ছেলের মধ্যে একজনকে বন্ধক হিসেবে রাখতে বাধ্য করেন খামার মালিক। কিছুদিন পর সুদসমেত টাকা নিয়ে হাজির হন ছেলেটির মা। কিন্তু ছেলেকে আর ফিরে পেলেন না তিনি। মিলল তার মৃতদেহ। শিশুটিকে গোপনে নিজের শশুরবাড়ির জমিতে পুঁতে দিয়েছিলেন খামার মালিক। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতির এই ঘটনায় অভিযুক্ত খামার মালিক, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে
পুলিস। জারি রয়েছে তদন্ত। জেলাশাসক বেঙ্কাটেশ্বর জানিয়েছেন, ‘গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে। হাঁসের খামারের মালিকের দাবি, জন্ডিসে ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে।’ মঙ্গলবার মায়ের সামনেই ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন করল পুলিস।
জানা গিয়েছে, তিরুপতির ওই হাঁসের খামারের মালিকের কাছে কাজ করতেন আনাকাম্মা ও তাঁর স্বামী চেনচাইয়া। ওই আদিবাসী দম্পতি সঙ্গে কাজে করত তাঁদের তিন ছেলেও। সবাইকে ক্রীতদাস হিসেবে রেখেছিলেন অভিযুক্ত। এরইমধ্যে চেনচাইয়ার মৃত্যু হয়। চেনচাইয়া মালিকের কাছে ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। তা শোধ না হওয়ায় আনাকাম্মা ও তাঁর সন্তানদের ছাড়েননি অভিযুক্ত। আনাকাম্মা কাজ ছাড়ার কথা বললে সুদ সহ ৪৫ হাজার টাকা ফেরাতে বলে অভিযুক্ত। শেষপর্যন্ত খামার মালিকের শর্ত মেনে এক ছেলেকে বন্ধক রেখে বাড়ি ফেরেন ওই মহিলা। মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ছেলেটি তাকে দিয়ে অমানবিক পরিশ্রম করানোর কথা জানাতো। গত ১২ এপ্রিল ছেলের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় আনাকাম্মার। কিছুদিন পর টাকা জোগাড় করে ছেলেকে ফেরাতে মালিকের কাছে পৌঁছন আনাকাম্মা। তখনই একের পর এক অজুহাত দিতে থাকেন অভিযুক্ত। তাতেই সন্দেহ হয় আনাকাম্মার।
সঙ্গে সঙ্গে পুলিসে খবর দেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। খামার মালিককে জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। তিনি জানান, বালকটির মৃত্যু হয়েছে। গোপনে দেহ কাঞ্চিপুরমে কবর দেওয়া হয়েছে।