নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নিরন্তর ইঁদুর দৌড়ের যুগে সুগার, প্রেশার থেকে বাঁচা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে মানুষের। অনেকেই এখন ভাত বা রুটি পাতে তুলতে ভয় পান। এইসব মানুষদের প্রিয় খাবার হয়ে উঠতে পারে পুষ্টিগুণে ভরা মিলেট। এই খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছেন। কেন এই খাবার পাতে তোলা উচিত বা কী কী পুষ্টিগুণ তাতে রয়েছে, সে সবকিছুই তাঁরা জানাবেন। চিকিৎসকদের দাবি, প্রেশার, সুগার বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য এই খাবার যথেষ্টই উপকারী। এই খাবারে ভিটামিন, ফাইবার সহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে আমরা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিয়েছি। স্কুলগুলির পড়ুয়াদেরও কর্মসূচিতে শামিল করা হয়েছিল। কীভাবে খাবার খাওয়া উচিত, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে তাদের সচেতন করা হয়েছে। তারা আগে থেকে এই বিষয়ে কত সচেতন ছিল তা জানতে ‘ড্রয়িং’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেরা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা দরকার। মিলেট উপকারী খাবার।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে এই ধরনের খাবারের প্রচলন ছিল। এখন অনেকেই ফাস্টফুডে মজে রয়েছে। তাতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে। মিলেট চাষের এলাকাও আগের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই দেশেই সবচেয়ে বেশি এ ধরনের শস্য চাষ হয়। অনুর্বর বা শুষ্ক মাটিতেও এই চাষ হয়। তবে চাহিদা কমায় চাষের উৎসাহ কমছে। অনেক জায়গায় পশু খাদ্য হিসেবেও তা ব্যবহার করা হয়।
স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রচার করা হয়। জেলার হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলিতে কী ধরনের খাবার বিক্রি হয় যা জানতে লাগাতার অভিযান চালানো হয়। যদিও জেলার বাসিন্দারা বলছেন, আধিকারিকদের নজরদারির অভাব রয়েছে। সেই কারণেই অনেক হোটেল বা রেস্টুরেন্ট নিয়ম না মেনে খাবার বিক্রি করছে। এক বছর আগে শক্তিগড়ের বিভিন্ন দোকান দেখে বিপুল সংখ্যক পচা ল্যাংচা উদ্ধার হয়েছিল। তারপর আর অভিযান চালানো হয়নি।
তাছাড়া সম্প্রতি শহরের বড় কোনও রেস্টুরেন্ট বা হোটেলেও অভিযান চালানো হয়নি। অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগের ফায়দা তুলতে পারে। তার খেসারত আমজনতাকে দিতে হবে।