নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের আদিবাসী মানুষের কাছে রেশনের চাল, ডাল ও অন্যান্য দ্রব্য সামগ্ৰী পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিয়ে নজরদারি শুরু হয়েছে। জেলার খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিকরা রেশন ডিলারদের দোকান পরিদর্শন করছেন। লোধা ও শবর সম্প্রদায়ের মানুষ রেশনের দ্রব্য পাচ্ছেন কি না, তা দেখতে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডী গ্ৰামে গ্ৰামে ঘুরছেন।
সভাধিপতি বলেন, লোধা, শবর ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশ প্রশাসনিক দপ্তরে আসা থেকে বিমুখ থাকেন। বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন কি না, সেটা দেখার জন্য পরিদর্শন শুরু হয়েছে। রেশন সামগ্ৰী পাওয়া সুনিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। জেলা প্রশাসন রেশন সরবরাহে স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে। রেশন ডিলারদের দোকানে গ্ৰাহকদের প্রাপ্য চাল, ডাল ও অন্য দ্রব্য সামগ্ৰীর পরিমাণ লিখে রাখা হয়েছে কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। রেশন সামগ্রীর গুণগত মান নিয়ে গ্ৰাহকদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে লোধা, শবর ও আদিবাসী সমাজের একাংশের মানুষ প্রশাসনিক দপ্তর এড়িয়ে চলেন। যারজেরে অভাব অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না। অসাধু রেশন ডিলাররা তার সুযোগ নিচ্ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে জেলাজুড়ে নজরদারি শুরু হয়েছে। সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রেও পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। আরকেএসওয়াই-১,২ , পিএইচএইচ, এএ ওয়াই, এসপিএইচএইচ রেশন কার্ড অনুযায়ী গ্ৰাহক বা উপভোক্তাদের রেশন দেওয়া হয়ে থাকে। সেখানে কোনও কারচুপি চলছে কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। জেলা রেশন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারে বিশেষভাবে সক্ষম কোন ব্যক্তির আধার কার্ড না থাকলে অন্য স্থানীয় দু’জন ব্যক্তির নাম মনোনয়ন করে রেশন তোলা যাবে। খাদ্য পরিদর্শকের অফিসে ফর্ম জমা করতে হবে। মনোনয়নকারী দুই ব্যক্তি বিশেষ সক্ষম ব্যক্তির হয়ে স্থানীয় ডিলারদের কাছে থেকে রেশন তুলতে পারবেন। বয়স্ক ব্যক্তিরাও এই সবিধা পাবেন। জেলা পরিষদের খাদ্য ও সরবরাহের স্থায়ী সমিতির এক সদস্য বলেন, রাজ্য সরকার রেশন সামগ্ৰী থেকে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে। জেলার লোধা সম্প্রদায়ের মানুষের একাংশ এখনও মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। রেশন সামগ্ৰী তাঁরা ঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না, তা দেখতেই পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের বাঁধগড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য ব্লকেও এই পরিদর্শন চালানো হবে। জেলা খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিক সোমনাথ মাঝি এদিন বলেন, রাজ্য সরকারের নানাবিধ প্রকল্পের সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন কি না, সেটা দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে লোধা, শবর সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে রেশন পৌঁছনো নিশ্চিত করা হচ্ছে। আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ড সংযুক্ত করতে আদিবাসী এলাকায় শিবির করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে সরকারের ধান ক্রয় কেন্দ্রেও আমরা নজরদারি চালাচ্ছি। ঝা়ড়গ্রাম ব্লকের বাঁধগড়া এলাকার রেশন ডিলার প্রকাশ কুমার দাস বলেন, প্রশাসনিক আধিকারিকরা পরিদর্শনে এসেছিলেন। গ্ৰাহকদের নিয়ম মেনে রেশন দেওয়া হয়।-নিজস্ব চিত্র