কথিকা পাল: সারাদিনের সমস্ত কাজ সামলে আপনি দিনের শেষে খুব ক্লান্ত। এই সময়ে আপনাকে কেউ এক গ্লাস জল হাতের কাছে এগিয়ে দিলেই শান্তি। তবে রাতের খাবার? মাথায় চিন্তা আর শরীরে ক্লান্তি নিয়ে কোনোরকমে রান্না শেষ করেছেন। এমন সময় দেখলেন তরকারিতে বা ঝোলে নুনের পরিমাণ এত বেশি হয়েছে যে খাওয়ার প্রায় অযোগ্য। আবার মনে করুন, বেশ অনেকজনের রান্নার দায়িত্ব পড়েছে আজ আপনার ওপর। আন্দাজ না বুঝতে পেরে রান্নার নুন পড়েছে বেশি। স্বাদ হয়েছে নোনতা। এবার সামলাবেন কীভাবে?
এই ঘটনা কখনো না কখনো আপনাদের সকলের সঙ্গেই ঘটেছে। খাবারে নুন বেশি হওয়ার ঘটনা আপাতভাবে সাধারণ। তবে, বিষয়টি সাধারণ হলেও চটজলদি এর সমাধান পাওয়া কিন্তু মোটেও সহজ নয়। এমন পরিস্থিতির শিকার যাঁরা হয়েছেন তাঁরা জানেন, সেই মুহূর্তে রান্নায় নুনের স্বাদ ঠিক করতে গিয়ে কেমন নাজেহাল হতে হয়!
রান্নার ক্ষেত্রে নুন হল এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা কম পরিমাণে ব্যবহার করলে রান্নায় স্বাদ হয় না। আবার অতিরিক্ত ব্যবহার করলেও বিপদ। যে কোনো ধরনের রান্নার স্বাদ বাড়াতে আপনি যতই মশলা ব্যবহার করুন। নুন সঠিক পরিমাণ মতো ব্যবহার করতে না জানলে সব পরিশ্রমই বৃথা যেতে পারে। রান্নায় নুন বেশি হয়ে যাওয়ার মতো বিপদে পড়লে আপনি ঠিক কী কী উপায়ে সমাধান পাবেন? জেনে নিন।
ঝালে, ঝোলে নুন বেশি হলে তা সামলে নেওয়া সবথেকে সহজ। সব্জির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। অথবা, যতটা পরিমাণে ঝোল বা ঝাল তৈরি করেছেন তাতে খানিকটা জল মিশিয়ে দিতে পারেন। জলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে বা সব্জির পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে অনেক সময়ই রান্নার অতিরিক্ত নোনতা স্বাদ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই সমস্যা থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে লেবুর রস। এটি খাবারের অতিরিক্ত লবণাক্ত স্বাদ কমিয়ে দেয়। এছাড়া, টোম্যাটো পিউরি বা পেস্ট, টোম্যাটো স্যস, ইত্যাদি খাবারে অতিরিক্ত নুনের স্বাদ কমাতে সাহায্য করে। কারণ টোম্যাটোতেও থাকে অ্যাসিডিক উপকরণ। স্যুপ বা স্টু জাতীয় খাবারে নুন বেশি হয়ে গেলে এই উপায়টি একবার ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
নোনতা স্বাদের একদম বিপরীত হল মিষ্টি স্বাদ বা চিনি। তাই রান্নায় অতিরিক্ত নোনতা স্বাদ কমাতে হলে চিনি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ রান্নাতে নোনতা ভাব কাটাতে বেশি চিনি যোগ করে ফেললে আর এক সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই উপায়টি অনুসরণ করলে মনে রাখবেন, রান্নার নোনতা ভাব যেন হালকা স্বাদের হয়। অতিরিক্ত নয়। তবেই চিনি সহযোগে স্বাদে সামঞ্জস্য আসবে। আবার চিনির বদলে গুড় বা মধু যোগ করলেও নুনের স্বাদ কমে।
এই বিপদে আপনার বন্ধু হতে পারে কাঁচা আলু। আলুকে টুকরো করে কেটে নোনতা রান্নায় যোগ করতে পারেন। রান্নাতে অতিরিক্ত নুনের পরিমাণ ওই আলুর টুকরোগুলি শুষে নেবে। এবং, স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখবে।
খাবারে অতিরিক্ত লবণাক্ত স্বাদ কমানোর জন্য দুধ বা দুধ থেকে তৈরি ক্রিম বা দুগ্ধজাত অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন। নন-ডেয়ারি মিল্ক অর্থাৎ ওট মিল্ক বা নারকেলের দুধও ব্যবহার করতে পারেন। তাতেও একই ফল পাবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখবেন নোনতা স্বাদ কাটাতে এই উপাদানগুলির ব্যবহার যাতে রান্নাতেও মানানসই হয়। দুগ্ধজাত উপকরণ যোগ করা যাবে না এমন রান্নার নোনতা স্বাদ কাটাতে এই উপকরণগুলির ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
নোনতা স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে আপনি রান্নায় সামান্য ভিনিগার মেশাতে পারে। এটি নুনের তীব্রতা কমিয়ে রান্নার স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখবে। আবার, আটা বা ময়দার ছোট বল বানিয়ে ঝোল বা তরকারিতে ফেলে দিতে পারেন। এটি আপনার রান্নার অতিরিক্ত নুন শুষে নেবে। এছাড়া, আপনি কাঁচা পেঁয়াজ ব্যবহার করতে পারেন। কাঁচা পেঁয়াজ অল্প করে কুচিয়ে মিশিয়ে দিন রান্নায়। প্রয়োজনে আপনি এই কাঁচা পেঁয়াজের কুচি ভেজে নিয়েও রান্নাতে ব্যবহার করতে পারেন। এতে রান্নায় নোনাভাব কেটে যাবে।
রান্নায় নুন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই সামান্য চেখে নিয়ে তারপর নুন যোগ করুন। গিন্নিদের এই অভ্যেস বহু পুরনো। এটুকু সাবধানতা অবলম্বন করলে আখেরে আপনারই লাভ। যে কোনো রান্নায় প্রথমে অল্প অল্প পরিমাণে নুন যোগ করুন। এতে নুনের পরিমাণে আন্দাজ আসবে এবং অতিরিক্ত নুনের স্বাদ বেশিও হবে না। পরে প্রয়োজনে বাড়িয়ে দেবেন।