Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রাচীন রীতি মেনেই কালনার ভবানন্দপুরের মুখোপাধ্যায় বাড়িতে পুজো, উমার কৈলাশে ফেরার বার্তা নিয়ে উড়ে যায় নীলকণ্ঠ পাখি!

প্রায় ২৫০ বছর আগে কালনার ভবানন্দপুরের মুখোপাধ্যায় পরিবারে দুর্গাপুজো শুরু হয়। প্রাচীন রীতি মেনেই এখানে পুজো হয়

প্রাচীন রীতি মেনেই কালনার ভবানন্দপুরের মুখোপাধ্যায় বাড়িতে পুজো, উমার কৈলাশে ফেরার বার্তা নিয়ে উড়ে যায় নীলকণ্ঠ পাখি!
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: প্রায় ২৫০ বছর আগে কালনার ভবানন্দপুরের মুখোপাধ্যায় পরিবারে দুর্গাপুজো শুরু হয়। প্রাচীন রীতি মেনেই এখানে পুজো হয়। উৎসবের ক’দিন আশপাশের গ্রামের মানুষ ভিড় জমায় দুর্গা দালানে। দুর্গা মণ্ডপের পাশেই রয়েছে নবপত্রিকার আলাদা মণ্ডপ। 

Advertisement

স্থানীয়দের কথায়, কালনার এই গ্রাম বহু প্রাচীন। প্রায় ২৫০ বছর আগে গ্রামের জমিদার ভুবনানন্দ মুখোপাধ্যায় গ্রামবাসীদের আবদার মেটাতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্য হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের আমল থেকে পুজোর জৌলুস বৃদ্ধি পায়। হরিনারায়ণবাবু ব্রিটিশ আমলের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। সেই সময় পুজোর ক’দিন আশেপাশের আট-১০টি গ্রামের মানুষকে খাওয়ানো হতো জমিদার বাড়িতে। 
পরিবারের দাবি, জমিদার ভুবনানন্দবাবুর নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয়েছে ভবানন্দপুর। পরিবারের অনেকই আজ ভিনরা঩জ্যে ও বিদেশে থাকেন। পারিবারিক দুর্গাপুজোয় অনেকেই হাজির হয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। এক সময় ছাগ বলির প্রথা থাকলেও এখন চালকুমড়ো, আখ প্রভৃতি বলি দেওয়া হয়। সারা বছর কর্মসূত্রে পরিবারের সদস্যরা আলাদা থাকলেও পুজোর ক’দিন একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে সকলে আনন্দে মেতে  ওঠেন। দশমীতে সিঁদুর খেলা হয়। বিসর্জনের পর গ্রামের একটি মনসা গাছের নীচে গিয়ে ঢাক বাজানো হয়। স্থানীয়দের কথায়, এই পুজো শেষে স্থানীয় গাছ থেকে নীলকণ্ঠ পাখি আকাশে উড়ে যায়। পরিবার ও গ্রামের মানুষের ধারণা, উমার কৈলাশে ফেরার বার্তা নিয়ে যায় ওই নীলকণ্ঠ। সেই দৃশ্য দেখতে আজও মানুষ ভিড় করেন। পরিবারের সদস্য নন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়, সত্যগোপাল মুখোপাধ্যায়, কুনাল মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রাচীন রীতি মেনেই পুজো হয়। পরিবারের অনেকেই কর্মসূত্রে ভিনরাজ্য ও বিদেশে থাকেন। পুজোয় সকলে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের বধূ স্মৃতি মুখোপাধ্যায়, রিমা মুখোপাধ্যায় বলেন, পুজোয় মায়ের পায়ে অঞ্জলি দেওয়া, দশমীর সিঁদুর খেলা পরিবারের ঐতিহ্য।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ