Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তায় না ঘুরে কাজে মন দিন, দুই মন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

কখনো মাইক হাতে। আবার কখনো রাস্তায় যেতে যেতে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে ‘সিভিক সেন্স’ ফেরানোর চেষ্টা।

রাস্তায় না ঘুরে কাজে মন দিন, দুই মন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কখনো মাইক হাতে। আবার কখনো রাস্তায় যেতে যেতে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে ‘সিভিক সেন্স’ ফেরানোর চেষ্টা। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এমন ‘কর্মসূচি’ নিয়ে বর্তমানে মিম-এ ছয়লাপ সমাজমাধ্যম। একইভাবে হাসপাতালে হাসপাতালে ‘সাডন ভিজিট’ থেকে শুরু করে নিজের বিধানসভা এলাকার ফুটপাথ মুক্ত করার কর্মসূচি—রীতিমতো ‘লাইমলাইটে’ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। ফলাফল? বিতর্কের মুখে পড়তে হচ্ছে দলকেও। এই ধরনের কার্যকলাপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে একেবারেই ভালোভাবে নেননি, তার প্রমাণ মিলল বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে। রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে দপ্তরের কাজে বেশি ‘মনোনিবেশে’র সাফ বার্তা দিলেন তিনি। কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে। সূত্রের খবর, অন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সামনেই মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ‘রাস্তায় বেশি না ঘুরে দপ্তরে সময় দিন।’ যদিও গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানানো হয়, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। 

Advertisement

নবান্ন সূত্রে খবর, অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সময় ধরে চলেছে মন্ত্রিসভার বৈঠক। অনেকটা সময় ধরেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রদান থেকে শুরু করে সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপুজো সংক্রান্ত নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকে অযোগ্য হয়েও অন্নপূর্ণার টাকা পাচ্ছে বলে কথা ওঠে। তাই এক্ষেত্রে কিছুটা ‘কাটছাঁট’ করা উচিত বলে এক মন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন বলে খবর। কিন্তু সেই প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে উপভোক্তা সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। আর অন্নপূর্ণা যোজনার পরই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে দুই মন্ত্রীর ‘অতিসক্রিয়তা’। 
বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের একটি সাম্প্রতিক বৈঠকে ইস্যুটি ওঠে। প্রশ্ন ছিল, রাজ্যে ১৯ জন পূর্ণ মন্ত্রী, তিনজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ‘হাতে গোনা’ কয়েকজনের কার্যকলাপে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না তো? এই প্রেক্ষাপটে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মত রাজনৈতিক মহলের। 
কখনো বাজার পরিদর্শনে গিয়ে ধমক দিতে দেখা গিয়েছে অগ্নিমিত্রাকে। ফুটপাতে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ ফোটানো মহিলার সঙ্গে বচসার জেরে জোর বিতর্কেও জড়ান তিনি। আবার সম্প্রতি তাঁর ‘রাস্তায় হাঁটা’ মন্তব্যও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায়, দলের উপর মহল ক্ষিপ্ত। আবার ‘তোলাবাজি’ ইস্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বতের সঙ্গে পাশের কেন্দ্র রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার তর্কাতর্কিও দলের বিড়ম্বনার কারণ হয়েছে। মূলত যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করে গিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ ‘কাটমানি এবং তোলাবাজি মুক্ত’ হয়েছে। এবং ‘কথা কম, কাজ বেশি’র তত্ত্বকে সামনে রেখে রাজ্যের নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারীদেরও কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। বেঁধে দেওয়া সেই সুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী যে সরবেন না, তা বলাই বাহুল্য। তাই মন্ত্রীদের এমন বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।- নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ