সংবাদদাতা, কাটোয়া : পুরনো গুসকরা শহরের বুক চিরে চলে গিয়েছে বর্ধমান-রামপুরহাট লুপলাইন। কিন্তু রেলগেটে ফ্লাইওভার তৈরির স্বপ্ন এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে। রেলের তরফ থেকে এলাকা পরিদর্শনও হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই তীব্র যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। তবুও নির্বিকার রেল। গুসকরার পুর চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, কয়েক মাস আগেই ফ্লাইওভার করার জন যৌথ পরিদর্শন হয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি রেলের ইঞ্জিনিয়াররাও ছিলেন। তাঁরা জায়গা দেখে গিয়েছেন। এরপরেও প্রকল্পের কোনও গতি নেই। বর্তমানে আদৌ ফ্লাইওভার হবে কি না, তা এখনও রেল জানায়নি। আসলে আমাদের যে জায়গা দেখা হয়েছিল, তাও সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে।
গুসকরা রেলগেটে ফ্লাইওভার তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। যার ফলে গুসকরা স্টেশন থেকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট মুক্ত হতে দীর্ঘক্ষণ সময় লেগে যায়। শহরের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। শুধু তাই নয়, আসানসোল ও দুর্গাপুরে আ্যম্বুলেন্সে করে কোনও রোগী নিয়ে গেলে রেলগেটে যানজটে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয় গাড়িকে। কোনও উপায় থাকে না পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের। তাঁদেরও যানজট সমস্যা মুক্ত করতে হিমসিম খেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুসকরা থেকে দুর্গাপুর, আউশগ্রাম ও কাটোয়া থেকে আসানসোল যাওয়ার জন্য দিনে কয়েক’শো বাস যাতায়াত করে এই রেলগেট টপকেই। গুসকরা-মানকর রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গিয়েছে রেলগেট দিয়েই। বোলপুর, রামপুরহাট, আজিমগঞ্জ, উত্তরবঙ্গ, বিহারের সঙ্গে এই রেলপথ দিয়েই যোগাযোগ। তাই সারাদিনে প্রচুর মেলট্রেন, মালগাড়ি, লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন গুসকরা দিয়েই যাতায়াত করে। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময়েই রেলগেট বন্ধ রাখতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা পাঞ্জাব শেখ, উত্তম সাহানিরা বলেন, এখন বীরভূমের দেউচা পাঁচামির কোল ব্লক চালু হয়েছে। তাই সারাদিন বেশ কয়েকটি মালগাড়ি পাস করানো হয়। স্বভাবতই রেলগেটটিকে বন্ধ রাখতে হয়। দুর্ভোগের সীমা থাকে না। গুসকরা শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সরোজ বিশ্বাস, প্রদীপ হাজরারা বলেন, বার বার রেলকে অন্তত ফ্লাইওভার করার জন্য ডেপুটেশন দিয়েছি। কিন্তু প্রতিবারই রেলের তরফে শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কাজ হয়নি।
অন্যদিকে, আউশগ্রামের দরিয়াপুর থেকে গুসকরা শহরে প্রতিদিন কাজের জন্য বহু মানুষকে আসতে হয়। প্রত্যেকেই জানান, সারাদিনে যেভাবে রেলগেট বন্ধ থাকে, তাতে আমাদের যন্ত্রণার শেষ নেই। শহরে একটি পুরানো সাবওয়ে রয়েছে। কিন্তু সেখানে বড় গাড়ি যাতায়াত করে না। একটা মালগাড়ি যেতে অনেকক্ষণ সময় লেগে যায়। তাই রেলগেট তুলতেও সময় লেগে যায়। এতেই যানজট হয়। তাছাড়া রেলগেটে যাওয়ার রাস্তা চওড়া নয়। শহরে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যাও। তবুও রেলের হেলদোল নেই।