Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

উড়ন্ত ঝর্ণা

আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।

উড়ন্ত ঝর্ণা
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

জলকে কখনও উড়তে দেখেছ? অবাক লাগছে? ভাবছ তাও আবার সম্ভব নাকি? হ্যাঁ, সম্ভব! এমনই এক বিচিত্র উষ্ণ প্রস্রবণের কথাই আজ তোমাদের শোনাব। নাম তার ফ্লায়িং গিজার বা উড়ন্ত উষ্ণ প্রস্রবণ। জায়গাটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঞ্চলে। এখানেই রয়েছে সেই উষ্ণ প্রস্রবণ। যেখানে মাঝেমধ্যেই দেখা যায় জলরাশি লাফিয়ে উঠেছে আকাশ ছোঁয়ার আশায়। হঠাৎ দেখলে মনে হবে এই বুঝি মাটি থেকে ঝাঁপিয়ে উঠে উড়তে উড়তে জল আকাশে বিলীন হবে। মিশে যাবে আকাশের নীলিমায়। এমন কথা গল্পের মতো শোনালেও এই গিজারটা কিন্তু সত্যিই রয়েছে। রামধনু রঙের টিলার ভেতর থেকে যখন তখন আকাশে উড়ে যায় একরাশ জল। সে এক দৃশ্যই বটে!

Advertisement


এবার তোমরা আসল ঘটনাটা জানার জন্য উৎসুক হয়ে উঠেছ তাই তো? তাহলে গল্পটা বিস্তারিত বলি। সালটা ছিল ১৯৬৪। আমেরিকার কিছু বিজ্ঞানী একটা জিও থার্মাল প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে জলের তাপমাত্রা বিচার করছিলেন। সেই সূত্রেই তাঁরা পরীক্ষা করে জানতে পারেন যে, নেভাদার এক জায়গায় জলের তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে, সেখানে মাটি খুঁড়লে উষ্ণ প্রস্রবণের সন্ধান মিলবে। বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ড্রিল দিয়ে অঞ্চলটি খুঁড়ে দেখেন তাঁরা। কিন্তু সেখান থেকে যে জল বের হয়, তা সঠিক তাপমাত্রার নয় বলে খোঁড়া বন্ধ করে অন্যত্র পাড়ি জমান এই বিজ্ঞানীর দল। এদিকে খোঁড়া জায়গাটি মেরামত করা হয় না, যেমনকার তেমনই পড়ে থাকে সেটি। এরপরই শুরু হয় মজার খেলা। অর্ধেকটা ড্রিল করা অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে বেশ কিছু খনিজ পদার্থ মাটির তলা থেকে বেরতে থাকে এবং সেইগুলি মাটি ফুঁড়ে উঠতে শুরু করে। মাটি রঙিন হয়ে যায়। রামধনু রঙে রঙিন মাটির উপর খনিজ জমতে জমতে তা সামান্য উঁচু টিলা বা ঢিবিতে পরিণত হয়। এরপর মাটির তলা থেকে হঠাৎই প্রচণ্ড বেগে বেরতে থাকে জল। ফোয়ারার মতো জলরাশি মাটির নীচ থেকে বেরনো শুরু করে। তার বেগ এতটাই বেশি যে, মনে হয় জল আকাশ ছুঁয়ে যাবে। পর্যটকদের কাছে এটিই ‘উড়ন্ত ঝর্ণা’ রূপে ধরা দেয়।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ