গ্রীষ্মের বিয়েবাড়িতে ফুল দিয়ে চুল সাজান। কেমন ফুল দেবেন চুলে? থাকছে বিশেষজ্ঞের মতামত।
গ্রীষ্মের বিয়েবাড়িতে ফুল দিয়ে চুল সাজান। কেমন ফুল দেবেন চুলে? থাকছে বিশেষজ্ঞের মতামত।
বিয়েবাড়ি মানেই চুলে ফুল দিয়ে সাজ। কনের তো বটেই, এমনকী অতিথিরাও এই সাজ থেকে বঞ্চিত রাখতে চান না নিজেদের। আসলে গরমে বিয়ের অনেক সমস্যা। ভারী শাড়ি পরা যায় না, অনেক গয়না পরতেও ভালো লাগে না। তা এমন দিনে বিয়েবাড়ির সাজ জমকালো করে তুলতে হলে একমাত্র ভরসা ফুল। খোঁপা হোক বা বিনুনি, একরাশ ফুল দিয়ে তাকে সাজিয়ে তুলে গ্রীষ্মকালের বিয়েবাড়ির সাজ সম্পূর্ণ করেন মহিলারা। আর এই সময় জুঁই ও বেল হল ফুলের রাজা। নানারকম নকশা করে এই ফুল লাগানো হয় গরমকালে। তারই কয়েকটার সন্ধান দিলেন মেকআপ আর্টিস্ট ও হেয়ার স্টাইলিস্ট সানন্দা লাহা।
গরমে চুলে খোঁপা করতে পছন্দ করেন অনেকেই। কেউ হয়তো ঘাড়ের কাছে ঝুলিয়ে রাখেন খোঁপা, কেউ বা তা একটু উঁচু করে মাথার মাঝখানে বাঁধতে চান। খোঁপা যেমনই হোক তাকে ফুলের সাজে সজ্জিত করে তুলতে চাইলে বেশ কয়েকটা অপশন রয়েছে আমাদের হাতে। সানন্দা বললেন, ঝোলানো খোঁপার উপর দিকে হাফ সার্কেল করে মোটা জুঁই ফুলের মালা লাগালে ভালো লাগে। আবার একটু উঁচু করে বাঁধা খোঁপা হলে তা পুরোটা ঘিরে গোল করে মালা লাগানো যায়। কেউ আবার খোঁপা জুড়ে মালা লাগাতে চান। পুরো খোঁপাটাই মালায় ঢাকা থাকবে। তারও মধ্যে ডিজাইন করা যায়, জানালেন সানন্দা। তাঁর কথায়, ‘খোঁপার ধার দিয়ে পুরোটা গোল করে ফুল লাগানোর পর খোঁপার মাঝখানে লম্বালম্বি মালাটা এক লাইনে গেঁথে নেওয়া যায়। বা তা ‘ভি’ শেপ করে ডিজাইন করা যায়। আবার বাইরে থেকে ভেতর পর্যন্ত গোলাকারেও গেঁথে গোটা খোঁপাটাই ঢেকে দেওয়া যায়।’ উঁচু করে খোঁপা বেঁধে তার চারদিক দিয়ে গোল করে জুঁই ফুলের মালা লাগিয়ে মাঝখানে হয়তো একটা খোঁপায় দেওয়ার ব্রোচ লাগান অনেকে। কেউ বা সেই জায়গায় অন্য কোনও ফুল দেন। একটা সিংগল ফুল খোঁপার মাঝে বাকিটা মালা দিয়ে সাজানো। উঁচু করে খোঁপা বাঁধলে অনেকে কিন্তু নীচের দিকেও হাফ সার্কেল করে ফুল লাগাতে পছন্দ করে। সেক্ষেত্রে ইংরেজি ‘ইউ’-এর মতো করে ফুলের মালা লাগানো হচ্ছে চুলে।
এছাড়া গরমের বিয়েবাড়ির সাজে অন্য যেসব ফুল লাগানোর চল রয়েছে তার মধ্যে অবশ্যই গোলাপ অন্যতম। গোলাপ সবারই চিরকালের প্রিয় ফুল। আর এখন তা বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায় বলে অনেকেই শাড়ির রঙের সঙ্গে ম্যাচ বা কনট্রাস্ট করেও এই ফুল লাগাতে চাইছেন। গরমকালে যেসব রঙের গোলাপ জনপ্রিয় তার মধ্যে রয়েছে পিচ, বেবি পিংক, সাদা, হলুদ ইত্যাদি। এর সঙ্গে আবার কনট্রাস্ট করতে হয়তো মাঝখানে একটা লাল গোলাপ লাগানো হল, এইভাবে কম্বিনেশন করে খোঁপায় ফুল লাগানো হয় বিয়েবাড়িতে।
জুঁই ফুলের মালা খোঁপা জুড়ে দেওয়ার চল রয়েছে। আবার গোলাপ ফুল হয়তো খোঁপার এক ধার দিয়ে লাগাতে পছন্দ করেন মহিলারা। এক্ষেত্রে ফ্রেঞ্চ নট বেঁধে তার এক পাশ দিয়ে গোলাপের সারি লাগিয়ে দেন অনেকেই। একই স্টাইলে কার্নেশন, মোরগঝুঁটি ফুল, জিপসি ফুলও লাগানো হয়। মোরগঝুঁটি ফুল দিয়ে চুলের স্টাইলিংয়ের কথা বিশেষভাবে বললেন সানন্দা। তাঁর কথায়, এগুলো একটু লালচে গোলাপি বা বেগুনি রঙের হয়। উজ্জ্বল এই রংটি গরমে খুবই সুন্দর লাগে। এই ফুলগুলো একসঙ্গে গেঁথে তা খোঁপার উপর দিকে হাফ সার্কেল করে লাগালে একদম অন্যধরনের একটা লুক আসে। তাছাড়া এই ফুলগুলোয় একটু চকচকে ভেলভেটের মতো পাপড়ি থাকে। বিয়েবাড়ির সাজের সঙ্গে তা খুবই মানানসই।
এবার একটু অল্পবয়সিদের কথা বললেন সানন্দা। তারা চুলে খোঁপা করে না। বরং বিনুনি বেঁধে বা খোলা চুলেই তারা ফুল লাগায়। কেউ বা উঁচু করে পনিটেল বেঁধে তার চারধার দিয়ে ফুলের মালা বা ছোট ফুলের গোছা লাগাতে চায়। খোলা চুলের একদিকে একটু টেনে ক্লিপ দিয়ে আটকে সেই দিকেই চওড়া মোটা ফুলের সারি লম্বা করে লাগানো যায়। লেহেংগা, সালোয়ার কুর্তা ইত্যাদি পোশাকের সঙ্গে চুলের এই সাজ খুবই মানানসই। এছাড়াও আছে বিনুনিতে ফুল। এর আবার অনেক ধরন। কেউ লম্বা করে বিনুনি বেঁধে তাতে মোটা লম্বা জুঁইয়ে মালা ঝুলিয়ে দেন। কেউ বা একটু সরু বেল ফুলের মালা ক্রস করে গোটা বিনুনিতে লাগান। তাতে খানিকটা বিনুনি দেখাও যায় আবার কিছুটা অংশ ফুলে ঢাকা থাকে। অনেকে বেল ফুলের মালা দুফেরতা করে নিয়ে তা বিনুনিতে আড়াআড়িভাবে একটু তফাত রেখে লাগিয়ে দেয়। বিনুনির ঘনত্ব ও লম্বা কতটা তার উপর নির্ভর করে ফুলের বিভিন্ন প্যাটার্ন তৈরি করা হয়। বিনুনি যদি কোমর পর্যন্ত লম্বা হয় তাহলে একটা চওড়া জুঁইয়ের মালা মোটা করে ঝুলিয়ে দিন। আবার তার দৈর্ঘ্য যদি কম হয় তাহলে বেলের সরু মালা ক্রস করে লাগান। চুল যদি পাতলা হয় তাহলে আড়াআড়ি খানিকটা ছেড়ে ছেড়ে মালা লাগান।
আজকাল বিয়ে মানে পাঁচদিনের একটা ইভেন্ট। তাতে আইবুড়োভাত, এনগেজমেন্ট, সঙ্গীত, বিয়ে, রিসেপশন সবই নানারকম সাজে সম্পূর্ণ হয়। সেই ক্ষেত্রে চুলে একইরকম প্যাটার্ন থাকলে তো আর ভালো লাগবে না। এক এক দিন এক একরকম ডিজাইন করতে হবে। সানন্দা জানালেন, কার্নেশন ফুল দিয়ে গোছা বানিয়ে চুলের একদিকে লাগানো যায়। এই ধরনের ফুলের সাজ সঙ্গীত, মেহেন্দি বা রিসেপশনে ভালো লাগবে। আবার একরকম পাহাড়ি ফুল হয়, নাম হাইড্রেনজা। এই ফুল বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায়। সেগুলো একসঙ্গে কনট্রাস্ট করে গেঁথে নিয়ে তাও খোঁপার এক ধারে লাগানো যেতে পারে। আর আছে করম ফুল। এগুলো গোল আকারের ভরাট ফুল। একটু বড় সাইজ। একদিকে তিন চারটে লাগালেই খোঁপা ভরাট লাগবে। এমনই নানারকম ফুলের নকশায় চুল সেজে উঠুক বিয়েবাড়ির জন্য।
কমলিনী চক্রবর্তী