রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: গ্রামে অন্য ফসলের চাষ খুবই কম। শুধুমাত্র ফুল চাষ করেই আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতার দিশা দেখিয়েছে একটি গ্রাম। আর তারজন্যই আলিপুরদুয়ার জংশন লাগোয়া বিবেকানন্দ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙাপাড়া গ্রামটি ‘ফুল গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সারা বছর বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে গ্রামের শতাধিক পরিবার।
শুধু ব্যাংক ঋণ নয়। জেলা উদ্যান পালন দপ্তরও আর্থিক অনুদান দিয়ে ফুল চাষে উৎসাহ জোগাচ্ছে ডাঙাপাড়ার ফুল চাষিদের। জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিককে নিয়ে খোদ জেলাশাসক আর বিমলা নিজেও ডাঙাপাড়ায় গ্রামে গিয়ে বাড়ি বাড়ি ফুল চাষিদের উৎসাহ দিয়ে এসেছেন।
আলিপুরদুয়ার রেল জংশনের নর্থ পয়েন্ট রেল গেট থেকে ঝাঁ চকচকে পিচ ঢালা রাস্তা ধরে দু’কিমি এগলেই ডাঙাপাড়া। গ্রামের বাসিন্দাদের ফুল চাষে আগ্রহ হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। গ্রামের পাশেই বক্সার জঙ্গল। সন্ধ্যা নামলেই হাতির দল গ্রামে ঢুকে ধান, পাট ও অন্যান্য আনাজ খেয়ে সাবার করে দেয়। তাই বিকল্প হিসেবেও বাসিন্দারা ফুল চাষের দিকে ঝুঁকেছেন বলা যায়।
৪০ বছর আগে ডাঙাপাড়ায় ফুল চাষ শুরু হয়েছিল। এখানকার ফুল যাচ্ছে অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে। এছাড়া কোচবিহার ও জয়গাঁ হয়ে ভুটানেও যাচ্ছে। বছর বছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৩৫ বছর ধরে ফুল চাষ করেই সংসার চালাচ্ছেন নৃপেন্দ্র দাস। তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করে সারা বছর ভালোভাবেই সংসার চলে যাচ্ছে আমাদের।
নৃপেন্দ্রবাবু প্রতিবছর নিজের চার বিঘা জমিতে ফুল চাষ করছেন। যাঁদের নিজস্ব জমি নেই তাঁরা আবার অন্যের জমি লিজ নিয়ে ফুলের চাষ করছেন। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পলি হাউস বানিয়ে চাষ করা হচ্ছে। তারজন্য গ্রামে বিঘার পর বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে পলি হাউস।
জবা, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ, ডালিয়া থেকে শুরু করে ইনকা হাইব্রিড মেরিগোল্ড, ফ্রেন্স মেরিগোল্ড শোভা পাচ্ছে ডাঙাপাড়ার শতাধিক বাড়ির পলি হাউসে। ফুল চাষি দীপক বর্মন বলেন, আমি পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করছি। অসম, মেঘালয়, ভুটান ও কোচবিহার থেকে পাইকাররা এসে ফুল নিয়ে যান। কয়েক দিন আগে জেলাশাসক ও উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিক ফুল চাষ দেখে প্রশংসা করে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ডলিদেবী বলেন, ফুল চাষ করে সারা বছর ভালোই রোজগার হচ্ছে।
উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাঙাপাড়ায় এখন ৭৫ বিঘা জমিতে ফুল চাষ চলছে। জেলা উদ্যান পালন আধিকারিক দীপক সরকার বলেন, ডাঙাপাড়ার ফুল চাষিদের এবার বিঘা প্রতি ৬৬৭০ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে ফুল চাষের জন্য। এজন্য ফর্ম দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে চাষিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা ঢুকে যাবে।