Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিপদসীমার উপর বইছে শীলাবতী, কংসাবতী, পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার ভ্রুকুটি, পারাংয়ের জলে ভাসল কেশপুর

একটানা বৃষ্টি! আর তাতেই ফুঁসছে শিলাবতী ও কংসাবতী নদী। এর ফলে জেলায় ফের বন্যার ভ্রুকুটি। একদিকে, পারাং নদীর জল ঢুকল কেশপুরের খড়িকা এলাকায়।

বিপদসীমার উপর বইছে শীলাবতী, কংসাবতী, পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যার ভ্রুকুটি, পারাংয়ের জলে ভাসল কেশপুর
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: একটানা বৃষ্টি! আর তাতেই ফুঁসছে শিলাবতী ও কংসাবতী নদী। এর ফলে জেলায় ফের বন্যার ভ্রুকুটি। একদিকে, পারাং নদীর জল ঢুকল কেশপুরের খড়িকা এলাকায়। অপরদিকে বিভিন্ন নদীর জল বাড়তে থাকায় একাধিক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। একইসঙ্গে মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে প্রস্তুত থাকার বলা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। ত্রিপলের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারও। 

Advertisement

গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়। এরপর জল গ্রামেও ঢুকতে শুরু করে। এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্লকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। তিনি বলেন, বিভিন্ন নদীর জল বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও মানুষের সমস্যার কথা শুনলেই, দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্লকে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, এক টানা বৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসন তৈরি রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত মানুষের সমস্যার সমাধান হবে। জেলা পরিষদের তরফেও বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দিনভর বৃষ্টি হওয়ার পর দ্রুত বাড়তে শুরু করে শিলাবতী ও কংসাবতী নদীর জল। একইসঙ্গে পারাং, তমাল নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, এদিন ভোর রাত থেকেই কেশপুর ব্লকের খড়িকা এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। গোটা গ্রামের রাস্তা, চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়। ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। যদিও খবর পাওয়া মাত্রই ওই গ্রামে ত্রাণ পাঠায় কেশপুর ব্লক প্রশাসন। 
অপরদিকে, কেশপুরের মুগবাসান, সরিষাখোলা, কলাগ্রাম, পঞ্চমী সহ বেশকিছু এলাকার চাষের জমি জলমগ্ন হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। প্রসঙ্গত, এদিন কেশপুরের খড়িকা গ্রামে ঢুকতেই নিস্তব্ধতা চোখে পড়ে। ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসী শম্পা মিদ্যা, পায়েল মিদ্যা, অর্ণব দোলই বলেন, বৃষ্টি বাড়লেই গোটা এলাকা জলের তলায় চলে যায়। প্রায় পাঁচশো পরিবার সমস্যায় পড়েছে। কবে সমস্যার সমাধান হবে জানি না।
 বুধবার কেশপুর বিডিও অফিসে বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। বেশকিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জেলাশাসকের নির্দেশে ত্রাণ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। শিলাবতী নদীর জল বাড়তে শুরু করায় আতঙ্কে ভুগছেন গড়বেতা-১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। কারণ হড়পা বান এলেই ফের ভেসে যেতে পারে একাধিক এলাকা। ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী এলাকায় পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। 
গড়বেতা-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, নদীতে জল বেড়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জল ঢুকতে শুরু করলেই গ্রামের মানুষকে নিরাপদস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ