সংবাদদাতা,কান্দি: কিছুদিন আগেই বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। তার ১০দিনের মাথায় খড়গ্রাম ব্লকের ঝিল্লি পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা ফের প্লাবিত হল। সোমবার ভোর থেকেই ব্রাহ্মণীর কাটা বাঁধ দিয়ে ঝিল্লি পঞ্চায়েত এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। ফলে একহাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। এলাকার প্রধান রাস্তার উপরও জল জমে রয়েছে। ফলে ওই পঞ্চায়েত এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ ঝিল্লির দীঘা গ্রামের কাছে ব্রাহ্মণী নদীর ট্যাংরা বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করেছে।
প্রায় ১০দিন আগে ব্রাহ্মণীর মেদারি মাঠের বাঁধ ভেঙে ওই এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। তবে শুক্রবার থেকে ওই এলাকার জল নামতে শুরু করে। ফলে বাসিন্দাদের মনে স্বস্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু এদিন ভোর থেকে ফের ওই কাটা বাঁধ দিয়ে এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। টিঠিডাঙা, পাহাড়পুর, বাজিতপুর, ভুষকুল, যাদবপুর সহ অন্তত ১০টি গ্রামের মাঠে জল ঢুকে গিয়েছে। ভুষকুল গ্রামের নিচু এলাকায় কয়েকটি বাড়িতেও জল ঢুকেছে। প্রশাসন ওই এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বাহাদুর শেখ বলেন, ব্লক প্রশাসনের নির্দেশমতো ভুষকুল গ্রামে জলমগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি।
ওই এলাকার পোড়াডাঙা থেকে খাসপুর পর্যন্ত প্রধান গ্রামীণ রাস্তার প্রায় দুই কিমি জলে ডুবে গিয়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেলাই গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলি বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি, বন্যার জল গ্রামের ধারে এসে পৌঁছেছে। বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে।
এবিষয়ে খড়গ্রামের বিডিও মিলনী দাস বলেন, বৈধড়া ব্যারেজ থেকে প্রায় ৩২হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিন কান্দি মহকুমার অন্য এলাকায় বন্যার জল অনেকটাই নেমে গিয়েছে। বড়ঞা ব্লকের সুন্দরপুর পঞ্চায়েতে কিছু কৃষিজমি থেকে বন্যার জল নেমে গিয়েছে। কান্দি ব্লকের হিজল পঞ্চায়েতেও জল অনেকটা নেমে গিয়েছে। তবে ভরতপুর-১ ব্লকের সিজগ্রাম ও গড্ডা পঞ্চায়েত এলাকায় এখনও বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।