Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কান্দিতে, দ্বারকার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বহু গ্রাম

আরও অবনতি হয়েছে কান্দির বন্যা পরিস্থিতির। মঙ্গলবার রাতে দ্বারকা নদের বাঁধ ভেঙে হিজলের একাংশ প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কান্দিতে, দ্বারকার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বহু গ্রাম
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: আরও অবনতি হয়েছে কান্দির বন্যা পরিস্থিতির। মঙ্গলবার রাতে দ্বারকা নদের বাঁধ ভেঙে হিজলের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। ভরতপুর ১ ব্লকের বাজে চোঁয়াতোর ও সাহাপুর পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামে নতুন করে জল ঢুকেছে। ভরতপুর ২ ব্লকের রায়গ্রামের নিচু এলাকাও জলমগ্ন। রায়গ্রাম স্কুল যাওয়ার এক কিলোমিটার রাস্তা জলের তলায়।

Advertisement

গত চারদিন ধরে কান্দি মহকুমার খড়গ্রাম, ভরতপুর ও বড়ঞার বিভিন্ন গ্রাম জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। তার মধ্যেই কয়েকটি এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই কান্দি ব্লকের হিজল পঞ্চায়েতের সালেপুর গ্রামের কাছে দ্বারকা নদের বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। ফাটল দেখা দেওয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। সালেপুর, পায়রাখোল, হিজল, ইন্দ্রহাটা, নতুনগ্রাম প্লাবিত হয়। কৃষিজমির পর গ্রামের নিচু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। কোথাও বাড়ির একতলা পর্যন্ত ডুবে গিয়েছে। দ্বারকার জল ঢুকেছে স্থানীয় পুরন্দর পঞ্চায়েযেতের কয়েকটি গ্রামে। রাতেই ওই এলাকা পরিদর্শনে যান কান্দি মহকুমা শাসক উৎকর্ষ সিং ও কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার। দক্ষিণ হিজলের কয়েকটি গ্রামও অতিবর্ষণের জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মহকুমা শাসক বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকেই এখানে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের নামানো হয়েছে। বিধায়ক বলেন, পুরো ব্যাপারটি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দুর্গতদের উঁচু জায়গা ও ফ্লাড শেল্টারগুলিতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। লঙ্গরখানাও খোলা হয়েছে বেণিপুর গ্রামে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন বড়ঞা ও খড়গ্রাম ব্লকে নতুন করে কোনও গ্রাম প্লাবিত না হলেও বন্যা পরিস্থিতি একই রয়েছে। কোনও উন্নতি হয়নি। যদিও ভরতপুর ১ ব্লকের বাজে চোঁয়াতোর গ্রামে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই জল ঢুকতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাটির বস্তা ফেলে রাস্তার উপর বাঁধ দিলেও জলের তোড়ে সেই বাঁধ ভেঙে যায়। ওই এলাকায় প্রায় ৪০০ বিঘে জমির ফসল নষ্ট হতে বসেছে বলে চাষিদের দাবি। 
মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ওই ব্লকের সাহাপুর পঞ্চায়েতের পল্লিশ্রী, কুলুপুকুর, গৌরীনগর, হবিনগর গ্রামগুলিতে জল ঢুকতে শুরু করে। পঞ্চায়েত এলাকার কারোল বিলেও ব্যাপক জলস্ফিতি দেখা যায়। এর ফলে কান্দি-সালার রাজ্য সড়ক ছুঁয়ে ফেলেছে বন্যার জল। কারোল বিলের ব্যাপক জলস্ফিতির কারণে ভরতপুর ২ ব্লকের রায়গ্রামের নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। রায়গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় যাওয়ার প্রায় এক কিলোমিটার ঢালাই রাস্তায় হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে পড়েছে। জমা জল ঠেলে এদিন পড়ুয়াদের সাইকেলে চড়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার ছবি দেখা গিয়েছে। অনেকে সাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছে। কান্দি মহকুমা সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ন’টা নাগাদ তিলপাড়া ব্যারেজ থেকে ১৯ হাজার ৯০৩ কিউসেক, সকাল ৮টায় দেউচা ব্যারেজ থেকে ৩ হাজার ১৫ কিউসেক ও বৈধরা ব্যারেজ থেকে ২ হাজার ৩০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কান্দিতে ১১.৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
 জলমগ্ন ভরতপুর ১ ব্লকের আঙারপুর গ্রাম। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ