সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমার বন্যা পরিস্থিতির আরও কিছুটা অবনতি হয়েছে। বুধবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার নদীগুলির জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে। ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, শিলাবতী নদীর বাঁকা পয়েন্টে জলস্তর কিছুটা কমলেও রূপনারায়ণের রানিচকে এবং কংসাবতীর কল্মিজোড় পয়েন্টে অতিরিক্তি বিপদ সীমার উপর দিয়ে জল প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নতুন করে বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মহকুমা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রকোণা থানা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘাটাল মহকুমায় সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে ঘাটাল পুরসভা, খড়ার পুরসভা, ঘাটাল ব্লকের ১০টি গ্রামপঞ্চায়েত এবং দাসপুর-১ ব্লকের একটি গ্রামপঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। বহু মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। ওই সমস্ত এলাকায় বহু রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বরদা-আরামবাগ রাস্তা ডুবে যাওয়ার ফলে ওই রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বহু বসতবাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরে জল ঢুকেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিচু এলাকার বেশ কিছু ট্রান্সফর্মারের বিদ্যুৎ সংযোগ ইতিমধ্যেই বিচ্ছিন্ন করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিদ্যুৎ দপ্তর নৌকা, গাড়ি, টোটোয় করে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছে। ঘাটাল ডিভিশনের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার ও ডিভিশন ম্যানেজার বিশ্বদেব বিশ্বাস বলেন, নিরাপত্তার কারণে ইতি মধ্যে ঘাটাল ও বীরসিংহ গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের অধীন বর্তমানে ২২টি ট্রান্সফর্মারের সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জলস্তর বাড়লে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রায় সাড়ে ৫০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। মহকুমার ঘাটাল, চন্দ্রকোণা-১, চন্দ্রকোণা-২ ও দাসপুর-১ ব্লকের বহু জলবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে ফ্লাডশেল্ডার এবং স্কুলে রাখা হয়েছে। এবছরের তৃতীয় বারের বন্যায় এপর্যন্ত মোট দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে এবছর মোট চারজনের মৃত্যু হল। শতাধিক মানুষকে সাপে কামড়েছে।
প্রশাসনের অবশ্য আশ্বাস, ঘাটালের কিছু এলাকায় জল থাকলেও উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। আশাকরা হচ্ছে আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মহকুমায় বেশ কয়েকটি ত্রাণ শিবির চলছে। সেখানে প্রায় দেড় হাজার বন্যার্ত মানুষ রয়েছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হচ্ছে। অন্যান্য পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যও প্রশাসন তৈরি।