সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চন্দ্রকোণা ও ঘাটাল থানা এলাকায় বেশ কয়েকটি জায়গায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তার পাশাপাশি শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জলস্ফীতির ফলে ঘাটাল ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জলের তোড়ে দু’জন নিখোঁজ ছিলেন। তার মধ্যে একজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আর একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে ঘাটাল মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যান সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিস সুপার ধৃতিমান সরকার, বিধায়ক অজিত মাইতি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি সহ সরকারি আধিকারিকরা। তাঁরা চন্দ্রকোণা এবং ঘাটালের বিভিন্ন এলাকা পরির্দশন করেন। মানসবাবু বলেন, আমরা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। যাঁরা জলবন্দি হয়েছেন আমরা তাঁদের পাশে সবসময় রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো প্রশসান তাঁদের সমস্ত রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। পর্যাপ্ত ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তা বাড়ানো হবে। ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস জানিয়েছেন, চন্দ্রকোণা এলাকায় জল কিছুটা কমলেও ঘাটাল এলাকার নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি হয়েছে। তবে উদ্বেগের তেমন কারণ নেই।
প্রসঙ্গত, ঘাটাল মহকুমার বন্যা নতুন ঘটনা নয়। বৃহস্পতিবার থেকে চন্দ্রকোণা এলাকার শিলাবতী নদীর জলস্তর ক্রমশ বেড়েছে। এই ভাবে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ঘটনা বিগত পাঁচ দশকে কখনও হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় কয়েক ফুট করে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ কোনওরকম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। বৃহস্পতিবার রাতেই চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের পাঁচ-ছয় জায়গায় শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভগবন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যে সমস্ত এলাকায় কখনও বন্যা হয়নি সেই সমস্ত এলাকাও এবার প্লাবিত হয়ে বহু বাড়ি নষ্ট হয়েছে।
চন্দ্রকোণার বিধায়ক অরূপ ধাড়া বলেন, রাতে বহু পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাঁদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে যাদবনগর এলাকায় এক দম্পতি বাড়ি ফিরছিলেন। সেমসয় তুলসীচরণ রুইদাস নামে এক ব্যক্তি জলের তোড়ে ভেসে যান। শুক্রবার সন্ধ্যে পর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি।ঘাটালের সাংসদ প্রতিনিধি রামপদ মান্না বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঘাটাল ব্লক, ঘাটাল পুরসভা, খড়ার পুরসভা এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার ঘাটাল ব্লকের পান্না গ্রামের এক বৃদ্ধ দম্পতি বাড়ি ফেরার সময় জলের তোড়ে ভেসে যান। সঙ্গে সঙ্গে নৌকা পাঠিয়ে ওই বৃদ্ধাকেও উদ্ধার করা হয়। ওই বৃদ্ধা একটি গাছের ডাল ধরে জলে ভেসেছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রসাশন সমস্ত দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে।
ঘাটালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।-নিজস্ব চিত্র