Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম মেদিনীপুরে ফের বন্যা পরিস্থিতি, ব্লকে ব্লকে ত্রাণসামগ্রী পাঠাল প্রশাসন

বৃষ্টির থামার নামগন্ধ নেই। সকালের দিকে রোদ উঠলেও, বিকেলের পর বৃষ্টি বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে বন্যার পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্লকে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ফের বন্যা পরিস্থিতি, ব্লকে ব্লকে ত্রাণসামগ্রী পাঠাল প্রশাসন
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বৃষ্টির থামার নামগন্ধ নেই। সকালের দিকে রোদ উঠলেও, বিকেলের পর বৃষ্টি বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে বন্যার পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্লকে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেই এই ত্রাণ ব্যবহার করা হবে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জেলার বিভিন্ন ব্লকে এক লক্ষের বেশি জলের পাউচ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ হাজারের বেশি ত্রিপল দেওয়া হয়। প্রত্যন্ত এলাকার গৃহপালিত পশুর জন্য খাবার পাঠান হয়েছে। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর ও ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই বন্যা প্রবণ প্রতিটি ব্লকে কুইক রেসপন্স টিম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এসডিআরএফ (রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী) ও এনডিআরএফ (জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী) থাকছে। জেলায় তিনটি স্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেই কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা ধরেই খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গোটা বন্যা পরিস্থিতি তদারকি করছেন সেচন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, সেচদপ্তরের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। বৃষ্টি বাড়লেই চিন্তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি আগে কোনও দিন হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে কাজ হচ্ছে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না।
এদিন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, পরিস্থিতির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে। আপাতত, পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে আচমকা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেও ভয়ের কারণ নেই। বিভিন্ন ব্লকে ত্রাণ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ সমস্যায় পড়লেই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ জুন সকাল থেকেই জেলাজুড়ে বৃষ্টি হয়। এরফলে রাত থেকেই গ্রামে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করে। তাই ১৯ জুন সকালে বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে গড়বেতা-১ ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ও গড়বেতা-২ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। জানা গিয়েছে, গড়বেতা-১ , গড়বেতা-২ ব্লক এলাকা থেকে জল তাড়াতাড়ি নেমে গেলেও, চন্দ্রকোণা ও ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। এরফলে ঘাটাল মহকুমার একাধিক গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়েন। তবে শেষ কয়েকদিন ধরেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে ফের বন্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বন্যার জেরে তিন হাজারের বেশি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। আশেপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা। তবে ত্রাণ শিবিরেও অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে মানুষের জন্য রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্য শিবিরও চালু হয়েছে। সেই শিবির থেকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
 এদিন জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, প্রশাসন ও দলের নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করেছি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উপকৃত হয়েছে সাধারণ মানুষ। আরও বিপুল পরিমাণে ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে। গোয়ালতোড়ের হুমগড় এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাস বলেন , ১৯৭৮ সালের পর এমন পরিস্থিতি হয়নি। চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশ ভয়েই আছি।  বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা শাসকের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ