নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বন্যার জেরে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। জলে ভিজে নষ্ট হয়েছে বইপত্র। স্কুলও বন্ধ। এই অবস্থায় যাতে খুদে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে না যায়, সেজন্য শিক্ষকের ভুমিকায় এগিয়ে এলেন খোদ বিডিও। বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছেন জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও মিহির কর্মকার। আজ, মঙ্গলবার পাতকাটা পঞ্চায়েতের ডোডালিয়া গ্রামে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে এসে পড়ান তিনি।
বিডিও বলেন, ‘বন্যার কারণে এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িতে তিস্তার জল ঢুকে যায়। এখন জল নামলেও ঘরদোর লন্ডভন্ড। অনেকের বইখাতা জলে ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। নতুন করে বই পেলেও অনেকের পড়ায় মন নেই। দুর্গত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা যাতে পড়াশোনা থেকে দূরে সরে না যায়, সেকারণে আমি নিজেই সময় করে ক্লাস নিচ্ছি। যতদিন না স্কুল খুলছে, আমার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। ’
ডোডালিয়ার বাসিন্দা পূর্ণিমা সরকারের ছেলে সূর্য পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দুর্গত এলাকায় যেভাবে বিডিও শিক্ষকের ভুমিকায় এগিয়ে এসেছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন পূর্ণিমা। বললেন, ছেলের বইপত্র জলে ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তার উপর স্কুল ছুটি। এলাকার শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বিডিও নিজে দুর্গত এলাকায় এসে পড়াচ্ছেন। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।
এদিন বিডিওর সঙ্গে দুর্গত এলাকায় ক্লাস নেন ডোডালিয়া চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তজমল হক। তিনি বলেন, ভাইফোঁটার পর স্কুল খুলবে। কিন্তু দুর্গত এলাকার পড়ুয়ারা যাতে পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হয়ে না পড়ে, সেজন্য বিডিওর ডাকে বন্যা কবলিত গ্রামে এসে ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছি। খুবই ভালো লাগছে।