Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাগদায় ইছামতীর বুকে কচুরিপানার উপর ‘ভাসমান খেত’, ঢ্যাঁড়শ ফলনের অপেক্ষা

রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই কচুরিপানার উপর ভাসমান সব্জি চাষ করে তাক লাগিয়েছেন বাগদার যুবক জয় বিশ্বাস। নদীতে ভাসছে ঢ্যাঁড়শের খেত।

বাগদায় ইছামতীর বুকে কচুরিপানার উপর ‘ভাসমান খেত’, ঢ্যাঁড়শ ফলনের অপেক্ষা
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই কচুরিপানার উপর ভাসমান সব্জি চাষ করে তাক লাগিয়েছেন বাগদার যুবক জয় বিশ্বাস। নদীতে ভাসছে ঢ্যাঁড়শের খেত। মাত্র তিন মাসেই তিনি গড়ে তুলেছেন এই ভাসমান সব্জির খেত। দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর এই চাষ দেখতে আসছেন অনেকেই। ঢ্যাঁড়শ গাছে ফুল এসেছে। যুবকের দাবি, কয়েকদিন পরেই খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠবে এই ঢ্যাঁড়শ। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ইছামতী নদীতে প্রায় আড়াই কাঠা জমির সমান এলাকায় এই চাষ শুরু করেছেন তিনি। প্রথম চাষেই এসেছে সাফল্য। আগামী দিনে আরও বড় আকারে ভাসমান পদ্ধতিতে বিভিন্ন সব্জি চাষ করতে চান জয়। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় এই সব্জির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সাধারণ সব্জির তুলনায় বেশি।

Advertisement

ছোট থেকেই চাষের জমিতে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেন বাগদার খড়ের মাঠের যুবক জয় বিশ্বাসের। অভাবের সংসার তাঁদের। টিনের চাল দেওয়া দরমার একটি ছোট্ট ঘরেই বসবাস করেন তাঁরা। জমি কেনার সামর্থ্য নেই। তবে চাষ করা যে তাঁর শখ! সেই শখ মেটাতেই নদীর বুকে ভাসমান চাষ শুরু করেন তিনি। জয় পেশায় মাছ বিক্রেতা। সকাল হলেই বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে দত্তফুলিয়ার মাছের বাজার যান মাছ আনতে। তারপর সাইকেলে করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মাছ বিক্রি করেন। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। এই অবস্থায় চাষ করে বাড়তি আয়ের কথা ভাবেন। কিন্তু জমি কোথায়? বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীতে কচুরিপানার উপর কলমি শাক জন্মাতে দেখে ভাবেন, এভাবেও তাহলে চাষ করা যায়! এরপর ইউটিউবে নদীর বুকে ভাসমান চাষের খোঁজ শুরু করেন। সেখান থেকেই মেলে দিশা। এক মাস ধরে কচুরিপানা পচিয়ে তা দিয়ে ভাসমান জমি প্রস্তুত করেন। সেখানে বসিয়ে দেন ঢ্যাঁড়শের বীজ। কিছুদিন পর ওই বীজ থেকে গাছের চারা বের হয়। তাঁর যত্নে বেড়ে উঠছে সারি সারি ঢ্যাঁড়শ গাছ। পাশেই বেড়ে উঠেছে পুঁই শাকের গাছ। তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেন স্ত্রী। চাষের কাজের সুবিধার্থে নৌকা কিনেছেন জয়। তিনি বলেন, চাষের প্রতি ঝোঁক থাকলেও জমির অভাবে চাষ করতে পারতাম না। একদিন নদীতে পচা কচুরিপানায় কলমি শাকের ঝোপ দেখে বিকল্প চাষের কথা মাথায় আসে। এরপরই শুরু করি ভাসমান চাষ। এই চাষে রাসায়নিক সার লাগে না। গোরু, ছাগলে গাছ খেয়ে ফেলার ভয় নেই। আরও বড় এলাকায় ভাসমান চাষ করতে চান জয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ