সংবাদদাতা, রামপুরহাট: করোনার সময় বন্ধ হওয়া বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন আজও চালু হয়নি। ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন বীরভূম, লাগোয়া মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ডের বেশকিছু এলাকার মানুষ। বারবার ট্রেনগুলি চালু করার দাবি জানিয়েও সদুত্তর মেলেনি। অগত্যা বড়সড় আন্দোলনে নামতে চলেছেন নিত্যযাত্রীরা। তারই অঙ্গ হিসেবে শুক্রবার রাজগ্রামের স্টেশন ম্যানেজারকে গণ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে স্টেশনের উন্নয়ন সহ হাওড়া– জয়নগর ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছেন আন্দোলকারীরা। স্মারকলিপির কপি পাঠানো হচ্ছে রেলমন্ত্রীর কাছেও। দাবি মানা না হলে আগামীদিনে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজগ্রাম নাগরিক মঞ্চ নামে স্থানীয়দের সংগঠনটি।
লকডাউনে বহুদিন বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়, ট্রেন চলাচলও শুরু হয়। কিন্তু বন্ধ হওয়া বামদেব প্যাসেঞ্জার, মালদহ-বর্ধমান প্যাসেঞ্জার, বারাণসী এক্সপ্রেস, হাওড়া-রাজগির ফাস্ট প্যাসেঞ্জার, শিয়ালদহ-দিল্লি এক্সপ্রেস (সপ্তাহে দু’ দিন) আজও চালু হয়নি। বীরভূম ছাড়াও লাগোয়া মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, হকার সহ হাজার হাজার যাত্রী এই ট্রেনগুলিতেই যাতায়াত করত। সেগুলি আজও চালু না হওয়ায় কয়েক হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন রাজগ্রামের মানুষ। কারণ, এই ট্রেনগুলির অধিকাংশরেই স্টপ ছিল রাজগ্রামে। বর্তমানে এখানে হাতেগোনা ট্রেন দাঁড়ায়।
ওই ট্রেনগুলি ফের চালুর দাবিতে বড়সড় আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে রাজগ্রাম নাগরিক মঞ্চের। নাগরিক মঞ্চের আফতাব আহমেদ, অচিন্ত্য ঘোষ, গোবিন্দলাল বিশ্বাস, মন্টেন মুন্সি, রামকুমার ভকত, আলি আসগর, পরমানন্দ সাঁতরা বলেন, করোনা কাল থেকে বেশকিছু লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সকলে। নিম্ন আয়ের মানুষরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়েছেন। অবিলম্বে সেই ট্রেনগুলি পুনরায় চালু করতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা বলেন, হাওড়া–জয়নগর প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সমস্ত স্টেশনে স্টপ রয়েছে। অথচ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এক্সপ্রেসের। এই ট্রেনটির ভাড়া লোকাল ট্রেনের সমতুল্য করতে হবে।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, রামপুরহাট–হাওড়া বিশ্বভারতী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার রামপুরহাট থেকে ছাড়ে। এই এলাকার যাত্রীদের জন্য কানেকটিভ ট্রেন বলতে বারহারোহা–রামপুরহাট লোকাল। কিন্তু প্রায়ই ট্রেনটি বিলম্বে চলায় বিশ্বভারতী ধরা সম্ভব হয় না। তেমনি হাওড়া থেকে ওই ট্রেনটি ধরে রাতে রামপুরহাটে নামার পর রাজগ্রাম বা মুরারই আসার কোনও কানেকটিভ ট্রেন নেই। তাই বিশ্বভারতীকে পাকুর বা তিনপাহাড় পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হোক।
ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলেন, রেলের কাছে রাজগ্রাম অবহেলিত। সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কোনও ট্রেন নেই। এই এলাকায় বাস যোগাযোগও ভালো নেই। মোটা টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাই এই সময়ের মধ্যে চলা কুলিক এক্সপ্রেসের রাজগ্রামে স্টপ দিলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। সেই সঙ্গে তাঁরা আপ ও ডাউন সাহেবগঞ্জ-হাওড়া ইন্টারসিটি এবং আপ গৌড় এক্সপ্রেসের স্টপের দাবি জানিয়েছেন। স্টেশন ম্যানেজার কুনাল কুমার বলেন, স্মারকলিপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে রাজগ্রাম ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকেও স্টেশন ম্যানেজারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে রেলের বঞ্চনার প্রতিবাদে এককাট্টা হচ্ছেন রাজগ্রামবাসী।