নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: অবশেষে দুর্ভোগ ঘুচল কিডনি রোগীদের। জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সদর হাসপাতালে চালু হল ডায়ালিসিসের ৫টি নয়া মেশিন। বুধবার এই পরিষেবার উদ্বোধন করেন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ। উপস্থিত ছিলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার। এর আগে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ডায়ালিসিসের যে মেশিনগুলি ছিল, সেগুলি অনেক পুরনো হয়ে গিয়েছিল। ফলে মাঝেমধ্যেই খারাপ হয়ে পড়ছিল সেগুলি। এর জেরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল কিডনির অসুখে আক্রান্ত রোগীদের। পরিষেবা না পেয়ে প্রায়ই ফিরে যেতে হচ্ছিল তাঁদের। অবশেষে নতুন মেশিন আসায় নির্বিঘ্নে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস পরিষেবা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার। তিনি বলেন, নতুন মেশিনগুলি অনেক উন্নত। এর আগে যে মেশিন ছিল, তাতে এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের ডায়ালিসিস পরিষেবা দেওয়া যেত না। কিন্তু পজিটিভ রোগীদের জন্য এখন মেশিন রয়েছে। ফলে তাঁদেরও যদি প্রয়োজন হয়, জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল থেকে ডায়ালিসিস পরিষেবা পাবেন।
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিসের পাঁচটি মেশিন রয়েছে। সদর হাসপাতালে নতুন পাঁচটি মেশিন আসায় কিডনি রোগীদের অনেকটাই সুবিধা হবে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, জলপাইগুড়ি মেডিকেল ছাড়াও মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু রয়েছে। পাঁচটি মেশিন রয়েছে সেখানে। ডায়ালিসিস মেশিনের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যভবনে প্রস্তাব পাঠিয়েছি আমরা।
এদিন হলদিবাড়ি থেকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ডায়ালিসিস করাতে এসেছিলেন ২৩ বছরের যুবতী যশোধা রায়। সপ্তাহে তিনবার ডায়ালিসিস করাতে হয় তাঁর। রোগীর মা সোমা রায় বলেন, একবছর ধরে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে মেয়েকে ডায়ালিসিস করাচ্ছি। কিন্তু আগে যে মেশিনগুলি ছিল, সেগুলি পুরনো হয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যেই বিগড়ে যেত। ফলে ডায়ালিসিস করাতে না পেরে অনেকবার বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে টাকা দিয়ে ডায়ালিসিস করানোর মতো সামর্থ্য নেই আমাদের। নতুন মেশিন আসায় এখন থেকে ডায়ালিসিস করাতে কোনও সমস্যা থাকবে না বলে মনে করছি।
এর আগে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ডায়ালিসিস ইউনিট ছিল দোতলায়। ফলে সিঁড়ি ভেঙে উঠতে কিডনি রোগীদের খুবই অসুবিধা হত। এখন গ্রাউন্ড ফ্লোরে ডায়ালিসিস ইউনিট চালু হওয়ায় রোগীদের সুবিধা হবে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, ডায়ালিসিস চলাকালীন কোনও রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে পড়লে, দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরুর জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যায় না। যদিও মেডিকেলের সুপারের দাবি, এমনটা যাতে না ঘটে, সেদিকে নজর থাকবে আমাদের। • নিজস্ব চিত্র।