নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করল রেল কর্তৃপক্ষ। পাঁচজনের এই কমিটি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখবে। দুর্ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই রিপোর্টও তারা জমা দেবে। তবে, তদন্ত কমিটির এই রিপোর্ট নিয়ে যাত্রীরা সন্দিহান। তাঁদের দাবি, বর্ধমান স্টেশনে বিভিন্ন ঘটনায় এর আগেও একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০২০ সালে স্টেশনের প্রবেশ পথে চাঙড় ভেঙে পড়ায় এক ব্যক্তি মারা যান। আরও একজন গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে তিনজন মারা গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাতেও তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কিন্তু তারপরও স্টেশনের ছবিটা বদল হয়নি।
যাত্রীদের অভিযোগ, পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাতেও লোকদেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভোগের ছবিটা বদল হবে না। পরিকাঠামো উন্নত না হওয়ায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ধমান শহর তৃণমূলের সভাপতি তন্ময় সিংহরায় বলেন, বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা অনেক আগে থেকেই ছিল। এর আগেও যাত্রীরা একাধিকবার পদপিষ্ট হয়েছেন। তারপরও রেলের হুঁশ ফেরেনি। এদিন রাতে দুর্ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষ বারবার ট্রেন ছাড়া বা প্ল্যাটফর্মে ঢোকার কথা ঘোষণা করছে। অন্য সময় তারা তা করে না। রবিবার সন্ধ্যাতেও নিয়ম মেনে ঘোষণা করা হয়নি। ওই দিন আরও বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। এই ঘটনা নিয়ে অনেকে এক্স হ্যান্ডেলে রেলমন্ত্রীকে ট্যাগ করেছিলেন। কিন্তু লাভ কিছুই হয়নি।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে ডিআরএম সহ শীর্ষ আধিকারিকরা বর্ধমান স্টেশনে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ভবিষ্যতে স্টেশনে আরও একটি ফুট ওভারব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা রেলের রয়েছে। এদিন সেই জায়গাটিও পরিদর্শন করা হয়েছে।
রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, পাঁচজনের কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। যদিও রেল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা হয়নি। ভিড় ছিল স্বাভাবিক। যদিও হাসপাতালে ভর্তি থাকা জখম যাত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁরা পদপিষ্ট হয়েই জখম হয়েছেন। কেউ মাথায় আবার কেউ বুকে আঘাত পেয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতা ঢাকার জন্য অন্য কথা বলছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ওভারব্রিজের দু’দিক থেকে যাত্রীরা আসতে থাকায় প্রথমে ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রথমে একজন মহিলা পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হন। পরে আরও সাতজন পদপিষ্ট হয়েছেন। তাঁদের সকলকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।