সংবাদদাতা, কাঁথি: রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, জল-জীবিকার সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সহ একগুচ্ছ দাবিতে পথে নেমেছেন উপকূলের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা। পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্যজীবী ফোরাম ও কাঁথি মহকুমা খটি মৎস্যজীবী ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে চারদিনব্যাপী ৮০কিলোমিটার র্যালি সহ পদযাত্রার সূচনা হয় মঙ্গলবার। একদিকে সমুদ্রসাথী প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চনার প্রতিবাদে, অন্যদিকে শুঁটকি মাছের কারবারে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বা ফড়েরাজ বন্ধ করার সহ নানা দাবিকে সামনে রেখে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের কেন্দেমারি ফেরিঘাট থেকে পদযাত্রার সূচনা হয়। খেজুরি-২ ব্লক, দেশপ্রাণ ব্লক হয়ে বৃহস্পতিবার কাঁথি-১ ব্লকের জুনপুটে এক সভার মধ্য দিয়ে পদযাত্রা শেষ হয়। অপরদিকে একটি বাইক র্যালি রামনগর-১ ব্লক থেকে এসে জুনপুটে মিলিত হয়। যাত্রাপথে মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন মৎস্যখটি এলাকার ৫০হাজার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন। আজ, শুক্রবার বিশ্ব মৎস্যজীবী দিবসে সংকল্প যাত্রার মাধ্যমে মৎস্যদপ্তরের জেলা অফিসে (মীনভবন) আধিকারিকদের কাছে ডেপুটেশন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উপকূল এলাকার মৎস্যজীবীদের অন্যতম প্রধান জীবিকা শুঁটকি মাছের কারবার। কিন্তু গত মরশুমে দাম পাওয়া যায়নি এবং চলতি মরশুমে উৎপাদন কম। পাইকারি বাজারে দাম ও চাহিদা কমেছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বা ফড়েরাজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এতে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, সরকার ফড়েদের নিয়ন্ত্রণ না করলে জীবন-জীবিকা বিপন্ন হবে। কাঁথি মহকুমা খটি মৎস্যজীবী ইউনিয়নের সম্পাদক দেবব্রত খুঁটিয়া বলেন, ফড়েদের দৌরাত্ম্যের কারণে জোগান কম হওয়া সত্ত্বেও দাম বাড়ছে না। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি টাস্কফোর্স গঠনের দাবিতে সম্প্রতি জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। কাজ হয়নি। পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, রাজ্য সরকার ২০২৪সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বাজেটে সমুদ্রসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। কিন্তু দু’দুটি ব্যান পিরিয়ড পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মৎস্যজীবীরা এই প্রকল্পের মুখ দেখতে পাননি। আগে একাধিবার এই ইস্যুতে মৎস্যদপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়া হলেও আশ্বাস ছাড়া কিছু মেলেনি। আগামী সাতদিনের মধ্যে মৎস্যদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব আমরা।



