নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: মাছ ব্যবসায়ীদের গাড়ি থেকে দেদার তোলা আদায় করছে পুলিস, এমনই অভিযোগ উঠেছে ঝাড়গ্রামে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম শহরের রাজীব গান্ধী হলে রাজ্য অ্যাকোয়া ফার্মার্স অ্যান্ড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তরফে সচেতনতা শিবির আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে জেলা মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক ও জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই সংগঠনের রাজ্যস্তরের নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মাছচাষিরা পুলিসের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে প্রতিরোধের ডাক দেন। এসডিপিও শামীম বিশ্বাস বলেন, আমাদের কাছে এধরনের কোনও অভিযোগ আসেনি। এলে তদন্ত করে দেখা হবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এতদিন ঝাড়গ্রামে মাছচাষের প্রসার ঘটেনি। এখন রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাছ চাষ বাড়ছে। মাছের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জেলার মৎস্য ব্যবসায়ীরাও খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, পুলিসের ব্যাপক তোলাবাজির জেরে মাছের ব্যবসা লাটে উঠতে বসেছে। যার জেরে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাছ চাষিরাও উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন।
সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব এদিন দক্ষিণবঙ্গজুড়ে মাছের গাড়ি থেকে তোলা তোলা আদায়ের অভিযোগ তোলে। ঝাড়গ্রামের কোথায় কোথায় মাছের গাড়ি থেকে তোলা আদায় করা হচ্ছে-তার বিবরণ দেয়। তোলা আদায় বন্ধ না হলে বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
শিবিরে উপস্থিত মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, জেলাজুড়ে রাস্তায় পুলিসের লাগামছাড়া তোলাবাজি চলছে। সিভিক ভলান্টিয়াররা তোলা তুলছে। গাড়ি পিছু ৩০০-৮০০টাকা নেওয়া হচ্ছে। গাড়িতে মাছ আনার জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। তার জন্য জরিমানা করা হচ্ছে। সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য পিন্টু দাস বলেন, পুলিসের পিছনে আমাদের বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। জেলায় কোথায় কোথায় তোলা আদায় হয়, সেবিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তিনি সংগঠনের সদস্যদের ব্লক প্রশাসন, পুলিস সুপার ও ডিজির কাছে অভিযোগ জানানোর আবেদন জানান। তোলা আদায় বন্ধ না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। গোপীবল্লভপুরের মাছ ব্যবসায়ী শুভ্রাংশু চন্দ্র বলেন, পাশের জেলা থেকে গাড়িতে মাছ আনি। পথে তোলা আদায় হচ্ছে। সংগঠনের জেলা সভাপতি বিকাশচন্দ্র জানা বলেন, এসপি ও জেলা মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে বিষয়টি জানানো হবে। জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ কুনামী হাঁসদা বলেন, জেলায় এভাবে তোলা আদায় হচ্ছে, তা এদিনই জানতে পারলাম। সমস্যা সমাধানে পুলিস সুপারের সঙ্গে কথা বলব।-নিজস্ব চিত্র