নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ফের মাছের মড়ক লেগেছে পুরুলিয়া শহরের ঐতিহ্যবাহী সাহেব বাঁধে। গত কয়েকদিন ধরেই মরা মাছ ভেসে উঠছে। দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চাপা দিতে হচ্ছে প্রাতঃভ্রমণকারীদের। এই পরিস্থিতিতে সাহেব বাঁধ পরিদর্শনে এসে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। সাহেব বাঁধকে বাঁচাতে জাতীয় পরিবেশ আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিলেন।
কয়েক মাস আগেও একবার সাহেব বাঁধে মাছের মড়ক নিয়ে তোলপাড় পড়েছিল। শহরের দূষিত জল যেভাবে সাহেব বাঁধে মেশা নিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন পরিবেশকর্মীরা। তারপর থেকে পুরসভার ও মত্স্যদপ্তরের তরফে সাহেব বাঁধের জল পরিষ্কার করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও তাতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। তারপরেও মাঝেমধ্যেই সাহেব বাঁধে মরা মাছ ভাসতে দেখা যেত। তবে, সম্প্রতি ফের মড়ক লাগায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সাহেব বাঁধের চারধার ঘুরে দেখেন সুভাষ দত্ত। ছবিও তোলেন। তিনি বলেন, শহরের অপরিশোধিত বর্জ্য নিকাশি নালার মাধ্যমে সাহেব বাঁধের জলের এসে মিশেছে। হাসপাতাল, নার্সিংহোমের বিষাক্ত তরলও সাহেব বাঁধে পড়ছে। এই বর্ষাতেও মাছ মরছে মানে বুঝতে হবে জল একেবারে বিষিয়ে গিয়েছে। তাছাড়া, সাহেব বাঁধে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। সেটিও দেখছি নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।
এদিন সাহেব বাঁধের জলে দেখা যায়, ১০-১২ কেজি ওজনের মরা রুই, কাতলা মাছও জলে ভাসছে। শুধু তাই নয়, যেসব মাছ জলে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, সেইসব মাছও মরে জলে ভাসছে। সুভাষবাবু বলেন, আমি সাহেব বাঁধের চারধার ঘুরে ছবি তুলেছি। এসব নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করব শীঘ্রই। প্রসঙ্গত, সাহেব বাঁধ নিয়ে আবেগ রয়েছে পুরুলিয়ার মানুষের। জানা যায়, ১৮৩৮ সালে মানভূমের জেলা সদর মানবাজার থেকে পুরুলিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। শহর থেকে কংসাবতী নদী ছিল প্রায় ছ’ কিলোমিটার দূরে। তাই জলের বন্দোবস্ত করতে ৮৫ একর জায়গাজুড়ে বাঁধ খনন করে ব্রিটিশরা। ২০১১ সালে জাতীয় সরোবরের মর্যাদা পায় সাহেব বাঁধ। তার পরে দফায় দফায় অনেক টাকা খরচ করে জলাশয়টির সংস্কার হয়েছে। সৌন্দর্যায়ন হয়েছে। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে পুরসভা উদাসীন। গোটা শহরের বর্জ্য সাহেব বাঁধে এসে পড়লেও কোনও পদক্ষেপই করেনি পুরসভা। বরং তাতে প্রচ্ছন্ন মদত দিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ। পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, সাহেব বাঁধকে আগের তুলনায় অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণরূপে দূষণমুক্ত করতে গেলে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা পুরসভার নেই। তাঁর সংযোজন, ওই পরিবেশবিদ আমাকে ফোন করেছিলেন। কথা হয়েছে। তিনি যদি জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করতে চান করতেই পারেন।