Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কীটনাশক প্রয়োগে কান্দির নদী ও বিলে কমে গিয়েছে মাছ, উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা

এলাকায় ছয়টি নদী ও দুটি বড় মাপের বিল থাকলেও গত এক দশকে মাছের উৎপাদন কমেছে। কৃষি জমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলেই মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমে গিয়েছে বলে কান্দির পরিবেশবিদদের দাবি।

কীটনাশক প্রয়োগে কান্দির নদী ও বিলে কমে গিয়েছে মাছ, উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: এলাকায় ছয়টি নদী ও দুটি বড় মাপের বিল থাকলেও গত এক দশকে মাছের উৎপাদন কমেছে। কৃষি জমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলেই মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমে গিয়েছে বলে কান্দির পরিবেশবিদদের দাবি। ফলে বিলুপ্তির পথে কয়েক প্রকার মাছের প্রজাতি।

Advertisement

খোলসে, বাছা, বান, বোয়াল থেকে বড় আকারের পুঁটি এই মাছগুলি এক দশক আগেও কান্দি মহকুমার বিভিন্ন মাছ বাজারে ব্যাপকভাবে বিক্রি হত। খদ্দেরের অভাবে ব্যবসায়ীরা মাছ পাঠাতেন অন্য বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি এইসব মাছের যোগান প্রায় নেই বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের। বছরের যে কয়টি দিন এগুলি পাওয়া যায় সেগুলি আবার বাইরে থেকে আমদানি করা হয় বলে মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
অথচ একটা সময় ওইসকল মাছের উৎপাদন হত স্থানীয় নদী ও বিল থেকে। কান্দি মহকুমা এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ময়ূরাক্ষী, কানা ময়ূরাক্ষী, ব্রাহ্মণী, বাবলা ও কুয়ে নদী। এছাড়া দ্বারকা নদও খড়গ্রাম ব্লকের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। মহকুমার খড়গ্রাম ও ভরতপুরে যথাক্রমে পাটন বিল ও কারোল বিল বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে। কাজেই এতগুলি জলাশয় থাকার ফলে একটা সময় যে বিশাল পরিমাণ মাছের উৎপাদন হত তা আর বলার অপেক্ষায় থাকেনা।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নদী ও বিল গুলি থেকে গেলেও নেই মাছের উৎপাদন একেবারে কমে গিয়েছে। চাহিদা পূরণ হয় চাষ করা মাছের মাধ্যমে। কারোল বিল এলাকার বাসিন্দা তথা স্থানীয় সিজগ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লালন সরকার বলেন, একদশক আগে কারোল বিলে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন টন করে মাছ পাওয়া যেত। ল্যাটা, কই, চিংড়ি, বোয়াল ছাড়াও বহু প্রজাতির মাছ মিলত এখানে। কিন্তু এখন করোল বিলে সারাদিন জাল টেনে ১০ কিলোগ্রামও মাছ ওঠে না।
আর মাছের উৎপাদন কমার পিছনে বাসিন্দারা কয়েকটি কারণ উল্লেখ করছেন। প্রথমত, নদী ও বিলে আগের মতন আর জল না থাকায় মাছ পাওয়া যায় না। তবে সবথেকে বড় সমস্যা দাঁড়িয়েছে কৃষি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ। সরাসরি মাছের উপর এর প্রভাব পড়ছে। কান্দি জেমো এনএন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তথা গবেষক সূর্য্যেন্দু্ দে বলেন, কৃষি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে মাছের উপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। কৃষি জমির কীটনাশক জলে ধুয়ে জমা হচ্ছে জলাশয় গুলিতে। যার ফলে মাছের মড়ক তৈরি হচ্ছে। তাছাড়াও মাছের প্রজননের মতন পরিবেশও আর বিল ও নদীগুলিতে নেই। সব মজে যেতে বসেছে। ফলে বিলুপ্তির পথে কয়েক প্রকার প্রজাতির মাছ। খড়গ্রাম ব্লকের পুড়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তথা দ্বারকা নদ বাঁচাও কমিটির সম্পাদক মিহির কুমার মণ্ডল বলেন, কীটনাশক প্রয়োগে নদীতেও মৃত মাছ ভেসে আসছে। যা আমাদের কাছে অসীম ক্ষতি। এনিয়ে প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ