শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: বৃহস্পতিবার এবছর কলেজে ভর্তির প্রথম দফার সময়সীমা শেষ হয়ে গেল। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৫২টি কলেজে ৭৪ হাজার ৪৩২ আসনে ভর্তি হলেন মাত্র ১৮ হাজার ৪৪১ পড়ুয়া। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা পড়ে রইল ৫৬ হাজার আসন। আজ শুক্রবার থেকে কলেজে নতুন পড়ুয়াদের নিয়ে ফার্স্ট সেমেস্টারের ক্লাস শুরু হবে। ক্লাসরুমে চার ভাগের তিন ভাগ ফাঁকা পড়ে থাকবে। যা একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা। অধিকাংশ কলেজেই অর্থনীতির ছাত্র পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বিভাগের অবস্থাও খুব শোচনীয়। কলেজে কলেজে একেবারে হতাশার ছবি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক অভিজিৎ রায়চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে এদিনই ভর্তির শেষদিন ছিল। শুক্রবার থেকেই নতুন পড়ুয়াদের নিয়ে ক্লাস শুরু হবে।
ময়না কলেজে মোট আসন ১০৭৬। ওই কলেজে ফার্স্ট সেমেস্টারে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ২২১ জন। প্রথম পর্যায়ে অনলাইনে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের নথি যাচাইয়ের শেষ তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার। ওই কলেজে ভর্তি হওয়া তিন পড়ুয়া নির্ধারিত সময়ে নথি যাচাইয়ে না আসায় কলেজ থেকে ২০ বার ফোন করা হয়। দু’জন ফোন ধরেননি। একজন ফোন তুললেও বৃহস্পতিবার কলেজে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মুখের উপর জানিয়ে দেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়ে হাল ছাড়তে নারাজ। তাই ওই পড়ুয়াকে অনলাইনে অরিজিনাল নথিপত্র কলেজে ই মেলে পাঠানোর আর্জি জানানো হয়। কলেজের ওই প্রস্তাবেও সাড়া দেনটি ছাত্রীটি। সন্ধ্যায় হতাশা ব্যক্ত করে প্রিন্সিপাল দিলীপকুমার পণ্ডা বলেন, অনলাইনে ভর্তি সত্ত্বেও তিন পড়ুয়া ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে এল না। অন্তত ২০ বার ফোন করার পরও তাঁদের আনা যায়নি।
সুতাহাটার বিবেকানন্দ মিশন মহাবিদ্যালয়ে মোট আসন ১৭০০। তারমধ্যে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৩৭০ জন। মহিষাদল রাজ কলেজে মোট আসন ২ হাজার ৮০০। ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৬১৫ জন। অথচ, দীর্ঘ সময় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মহিষাদল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য পড়ুয়াদের লম্বা লাইন পড়ত। ভর্তির জন্য সুপারিশের চিঠি জমা পড়ত প্রিন্সিপালের টেবিলে। সেই কলেজেও মোট আসনের ধারেকাছে ছাত্রছাত্রী নেই। প্রিন্সিপাল গৌতমকুমার মাইতি বলেন, গত বছর প্রায় দু’ হাজার ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছিলেন। এবার সংখ্যাটা অনেকটাই কম। আশাকরি, দ্বিতীয় ও দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছু ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবে।
তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ে মোট আসন ২৩১৫। ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ৬৬০টি। বৃহস্পতিবার কলেজের প্রিন্সিপাল আব্দুল মতিন বলেন, মোট সাড়ে চারশো জন ভর্তি হয়েছে। তাঁদের ভেরিফিকেশনও সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার থেকে ক্লাস শুরু হবে। গতবছর অর্থনীতিতে চারজন ভর্তি হলেও পরবর্তীতে সকলেই ড্রপ আউট হয়। এবছর অর্থনীতিতে পড়ুয়া নেই। আরও বেশকিছু সাবজেক্টে পড়ুয়া সংখ্যা সীমিত। দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের প্রায় সব কলেজে একই ছবি। প্রথম দফার ভর্তি শেষে ২৯ আগস্ট শুক্রবার থেকে ফার্স্ট সেমেস্টারের ক্লাস হবে। অনেক সাবজেক্টে তিন-চারজন করে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। ক্লাসরুমের ছবিটা এরকম হলে মাঝপথে কোর্স ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে অধ্যাপকরা এমনটাই বলছেন। তাই ১৮ হাজার পড়ুয়ার মধ্যে কত সংখ্যক ডিগ্রি কোর্স সম্পূর্ণ করবেন তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই গেল।